Header Ads

  • Breaking News

    মাটি পর্যন্ত পৌছাতে হলে একটি উল্কাকে কত বড় হতে হয়?

    যদি যথেষ্ট সময় ধরে কেউ আকাশ দেখে, তবে তার অসাধারণ উল্কা এবং উল্কাপাত দেখার কথা। উল্কাপাত দেখতে এত সুন্দর হবার কারণ হল অসংখ্য ছোট আকারের মহাজগতিক পাথর পৃথিবীর বায়ুমন্ডল দিয়ে আসা। এ সময় এইসব পাথর বায়ুমন্ডলের সাথে ঘর্ষণের কারণে প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে এবং আলোর তৈরি হয়। এইসব পাথরের আকার একটি শস্যের দানা থেকে শুরু করে ছোট ছোট নুড়ির আকারের হতে পারে।
    উল্কাকে ইংরেজীতে অনেক ভাবে প্রকাশ করা হয়। যেমন মিটিওর, মিটিওরয়েডস এবং মিটিওরাইটস। মিটিওর শব্দের আসল অর্থ হল বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার সময় নুড়ি পাথর আর বায়ুর ঘর্ষণে যে আলোর ধারার উৎপত্তি হয় সেটা। এই মিটিওর থেকে ভেঙ্গে যাওয়া খন্ডকে বলা হয় মিটিওরয়েডস। মিটিওরয়েডস যদি বায়ুমন্ডলের বাঁধা পার হয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস না হয়ে পৃথিবী বা অন্য গ্রহের মাটিতে পড়ে তখন সেই ধ্বংসাবশেষকে বলা হয় মিটিওরাইটস।
    মিটিওরয়েডস এর আকার একটি অণু থেকে শুরু করে ৩৩০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। ৩৩০ ফিটের চেয়ে বড় কোনও এরকম মিটিওরয়েডস কে বলা হয় এস্টেরয়েডস। কিন্তু পৃথিবীতে উল্কাপাতের সময় আমরা যা দেখি তা মূলত ধুলির আকারের, যখন কোনও ধুমকেতু পৃথিবীর কাছাকাছি দিয়ে যায় তখন মিটিওর শাওয়ার বা উল্কাপাত হয়।
    বোঝাই যাচ্ছে যে এইসব মিটিওর গুলির ভর খুবই কম হয় কিন্তু গতি থাকে প্রচন্ড। একারণে যখন বায়ুমন্ডল দিয়ে প্রবেশ করে তখন আগুন জ্বলে ওঠে। মিটিওরয়েডস যখন বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে তখন এর গত থাকে সেকেন্ডে ৭ থেকে ৪৫ মাইল। এই গতিতে এগুলি মহাকাশের বায়ুশুন্যতায় চলতে পারে কারণ সেখানে কোনও বাঁধা নেই। কিন্তু বায়ুমন্ডল হল পদার্থে পরিপূর্ণ। তাই চলার পথে প্রচন্ড ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়। এই ঘর্ষণের কারণে মিটিওরয়েডসের তাপমাত্রা ১৬৪৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে। যদি মিটিওরয়েডস যে পদার্থ দিয়ে তৈরি তার স্ফুটনাংক এর নীচে হয়, তখন তা বায়বীয় পদার্থে পরিণত হয়। এই ঘর্ষণের কারণে মিটিওরয়েডসের পদার্থ ও বায়ুমন্ডলের পদার্থ উজ্জ্বল আয়নিত কণায় পরিণত হয়। যখন এই সব আয়নিত পদার্থ আবার একত্রিত হয় তখন সেগুলি উজ্জ্বল আলোর ধারায় পরিণত হয় যাকে আমরা লেজ বলি। একটি শস্য দানার আকারের মিটিওরয়েডের লেজ এক মিটারের মত প্রশস্ত হয়। কিন্তু এদের গতি প্রচন্ড থাকায় দৈর্ঘ্যে তা কয়েক মাইল সমান হতে পারে।
    তাহলে মাটিতে পৌছাতে একটি মিটিওরয়েডকে কত বড় হতে হবে? অবাক করার মত হলে এটা সত্য যে যত মিটিওরয়েড মাটি পর্যন্ত পৌছায়, তাদের বেশিরভাগের আকারই খুবই ছোট। এগুলি গ্যাসে পরিণত হতে পারে না, কারণ এদের গতি অনেক বেশী থাকলেও আকারে ছোট হবার কারণে দ্রুত গতি হারিয়ে ফেলে, বলতে গেলে প্রায় ভেসে ভেসেই মাটি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এতে ঘর্ষণের সময় তত তাপ উৎপন্ন হয় না যততে সেটি গ্যাসে পরিণত হবে। অন্য কথায় বললে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে মাটি পর্যন্ত সেসব মিটিওরয়েডসই পৌছায় যাদের আকার অণুবীক্ষণীক।
    যেসব মিটিওরয়েডস খালি চোখে দেখা যায় তাদের আকার বিভিন্ন রকম হতে পারে। আকার ছাড়াও মাটিতে পৌঁছানোর জন্য আরও কিছু ফ্যাক্টর কাজ করে। যেমন মিটিওরয়েডসটি কি গতিতে বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করছে। কারণ এই গতির উপর নির্ভর করছে কি পরিমাণ ঘর্ষণের সৃষ্টি হবে। মাটিতে পৌছাতে হলে একটি মিটিওরয়েডের আকার অন্ততঃ একটি মার্বেলের সমান হতে হয়। এর চেয়ে ছোট আকারে মিটিওরয়েডস মাটির ৫০ থেকে ৭৫ মাইল উপরেই ভস্ম হয়ে যায়।
    মানুষ যেসব মিটিওরাইটস মাটি থেকে খুঁজে পায় সেগুলোর প্রাথমিক আকার থাকে কমপক্ষে একটি বাস্কেটবলের সমান। কারণ বড় মিটিওরয়েডস ভেঙ্গে ছোট ছোট খন্ডে পরিণত হয়।  

    No comments

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad