যেভাবে স্যাটেলাইট বা কৃত্তিম উপগ্রহ কাজ করে। প্রথম পর্ব।
“মানুষের অবশ্যই আকাশের উপরে ওঠা উচিত, বায়ুমন্ডল পার করে আরও উপরে যাওয়া
দরকার, শুধু তাহলেই সে বুঝতে পারবে যে জগতে সে বাস করছে, সেটা কিভাবে চলে।“
মানুষ যখন প্রথমবারের মত সফলতার সাথে স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠায় তারও কয়েকশত বছর
আগে সক্রেটিস এই কথা বলে গিয়েছিলেন। কিভাবে মহাকাশে যেতে হবে সে উপায় তার জানা না থাকলেও
তিনি সেসময়ই বুঝতে পেরেছিলেন মহাকাশ জয়ের গুরুত্ব কতখানি।
“কিভাবে আকাশে যেতে হবে” এই প্রশ্নের উত্তর মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই খুঁজছিল।
কিন্তু কোন উপায় কখনই তারা পাননি, যতদিন না আইজ্যাক নিউটান তার বিখ্যাত “ক্যাননবল থট
এক্সপেরিমেন্ট” প্রকাশ করেন। ১৭২৯ সালে আইজ্যাক নিউটন তার এই চিন্তাপ্রসূত তত্ব
প্রকাশ করেন। ব্যাপারটা এমন যে মনে করুন একটি কামান একটা উঁচু পর্বতের উপর বসিয়ে তার
গোলা আনুভূমিকভাবে দাগা হল। দেখা যাবে যে মাটিতে পড়ার আগে কিছু সময়ের জন্য কামানের
গোলাটি মাটির সাথে সমান্তরালভাবে চলতে থাকে। এখন মনে করুন কামানটিতে এমন একটি গোলা
দেয়া হল যাতে প্রচুর গানপাওডার ব্যবহার হয়েছে। তাতে কি হবে, গোলাটি মাটিতে পড়ার আগে,
আগের গোলাটির চেয়ে একটু বেশী দুরত্ব মাটির সাথে সমান্তরালভাবে অতিক্রম করবে। তার
মানে কি দাঁড়ালো? মনে করুন এবার কোনও গোলাকে এমন পরিমাণ শক্তি দেয়া হল যাতে সেটা এমন
গতি অর্জন করলে সে সেটা আর মাটিতে পড়বেনা, আবার পৃথিবীর আকর্ষণের বাইরেও যেতে
পারবে না। যে সেটা মাটির সাথে সমান্তরালে পৃথিবীকে পাক দিতে থাকবে।
১৯৫৭ সালের অক্টোবর মাসে সোভিয়েত বিজ্ঞানীরা সর্বপ্রথম নিউটনের এই তত্ব সত্য
প্রমাণ করেন। তাঁরা মহাকাশে স্পুটনিক-১ উৎক্ষেপণ করেন। এরই সাথে শুরু হয় “স্পেইস
রেস।“ মানুষ বের করে ফেলে কিভাবে কোনও বস্তুকে পৃথিবীর বা অন্য কোনও মহাজাগতিক
বস্তুর চারিদিকে নিয়ন্ত্রিতভাবে ঘুরপাক খাওয়ানো যায়। সেই যে শুরু, এরপর অনেক দেশই
পৃথিবীর কক্ষপথে স্যাটেলাইট পাঠায়, যেগুলোর মাঝে আমেরিকা, রাশিয়া ও চায়না উল্লেখ্যযোগ্য।
এখন পর্যন্ত ২,৫০০ এরও বেশী স্যাটেলাইট পৃথিবী ও অন্য গ্রহের কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে।
মানুষের তৈরি এইসব জিনিসের মাঝে কিছু কিছু আবার খুবই বড় এবং ভারী, যেমন ইন্টারন্যাশনাল
স্পেস ষ্টেশন। আবার অনেক স্যাটেলাইট হয়ত একটি পাউরুটি প্যাকেটের মাঝেই রেখে দেয়া যাবে।
এসব স্যাটেলাইটের থেকে পাওয়া সুবিধা আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করি, যেমন
আবহাওয়ার সংবাদ জানা, টেলিভিশন সম্প্রচার, প্রতিদিনের ফোনের কথাবার্তা ইত্যাদি।
মিলিটারিদের জন্য স্যাটেলাইট একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ জিনিস।
অবশ্যই স্যাটেলাইট তৈরি, কক্ষপথে পাঠানো এবং তার রক্ষণাবেক্ষণ করা এক বিশাল কর্মযজ্ঞ।
সারা পৃথিবীতে এই মুহূর্তেও কমপক্ষে ১০০০ এর বেশী স্যাটেলাইট তার কাজ করে যাচ্ছে। যে
কারণে মহাকাশের আমাদের সবচেয়ে কাছের জায়গাটিও যেকোনো ব্যস্ত শহরের মতই ব্যস্ত। এই
কাছের মহাকাশে আরও আছে এইসব স্যটেলাইট থেকে বিভিন্ন সময়ে তৈরি হওয়া “স্পেস ডেব্রিজ“
যা যেকোনো সময় যেকোনো স্যাটেলাইটের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
১১ পর্বের এই লেখায় আমরা স্যাটেলাইটের নাড়ি নক্ষত্র সব জানব।

No comments