বয়স্কদের জন্য এসপিরিন ক্ষতিকর হতে পারে।
মাঝে মাঝে আমরা শরীরে সাথে কিছু করি, যার একমাত্র কারণ হল সেগুলি করা সহজ। যেমন
অসংখ্য বয়স্ক মানুষ কম মাত্রার এস্পিরিন খান, আশা করেন যে এটি কিছু কারডিওভাস্কুলার
ইভেন্ট যেমন হার্ট এটাক বা স্ট্রোক থামিয়ে দেবে।
১৯৬০’র দশক থেকে ডাক্তার রা এস্পিরিন কে এন্টিথ্রম্বটিক হিসেবে প্রেস্ক্রাইব
করে আসছে। এন্টিথ্রম্বটিক রক্ত জমাট বাধতে দেয় না, প্লেটলেট গুলিকে একত্রিত হতে বাঁধা
দেয়। ১৯৮০ সালের দিকে বিখ্যাত এপিডেমিওলজিস্ট রিচারড পেটো এস্পিরিন এর সকল উপকারী
দিক নিয়ে প্রকাশিত প্রকাশনা নিয়ে একটি উপসংহারে আসেন। তিনি দেখেন যে এই জনপ্রিয়
ব্যাথা কমানোর ওষুধটি হার্ট এটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিচ্ছে। সেই থেকে
ডাক্তার রা হার্টের রোগীদের কম ডোজের এস্পিরিন খাবার পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন।
২০১৮ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায় যাদের হার্ট এটাক বা স্ট্রোক হবার ইতিহাস
নেই তাদের জন্য এস্পিরিনের হৃদরোগ কমানোর সক্ষমতার কোনও প্রমাণ নেই। কোনও কোনও ক্ষেত্রে
এস্পিরিন গ্রহনের পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে। পাঁচ বছর সময় নিয়ে ইউএস এবং অস্ট্রেলিয়ার
প্রায় ২০,০০০ মানুষের উপর একটি গবেষণা চালানো হয়। ৭০ বছরের উপরে যাদের কোনও কারডিওভাস্কুলার
সমস্যার ইতিহাস নেই, গবেষকেরা তাদের দিনে একটি করে এস্পিরিন খাওয়া যাবে কি যাবে তা
নির্ধারণ করা হয় এই গবেষণায়। এই গবেষণায় প্ল্যাসেবোও ব্যবহার করা হয়। দুটি গ্রপে
স্বেচ্ছাসেবকদের ভাগ করে দেয়া হয়। একদল প্ল্যাসেবো মানে যার কোনও রোগ সারাবার ক্ষমতা
নেই এমন কিছু গ্রহন করেন, অন্য দল দিনে ১০০ মিলিগ্রাম করে এস্পিরিন গ্রহন করতে থাকেন।
পাঁচ বছর পর ফলাফলে দেখা যায় যে পঙ্গুত্ব এবং চিন্তাশক্তি থাকার হারে কোনও পরিবর্তন
নেই। যারা এস্পিরিন নিচ্ছিল তাদের মাঝে মারার যাবার পরিমাণ ৫.৯%, যারা প্ল্যাসেবো
নিচ্ছিল তাদের মাঝে এই হার ৫.২%। যারা এস্পিরিন নিচ্ছিল এবং মারা গেছে তাদের অনেকেরই
ক্যান্সার ছিল, অন্ততঃ ৫০% এর। এটা প্রমাণিত নয় যে এস্পিরিন ক্যান্সারে আক্রান্ত
রোগীদের মৃত্যু ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় কি না। যারা প্রতিদিন এস্পিরিন নিতেন তাদের
ব্রেইন ও গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিন্যাল হেমোরেজের ঝুঁকিও বেড়ে গিয়েছিল। মারাত্মক রক্তক্ষরণ
যেগুলোর জন্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয় যার মাঝে আছে ব্রেইনে রক্তক্ষরণ, যারা প্রতিদিন
এস্পিরিন নিচ্ছিল এরা ছিল তাদের ৩.৮%, প্ল্যাসেবো গ্রহণকারীদের মাঝে এই হার ছিল
২.৭%।
আগের গবেষণায় দেখা গেছে যাদের হার্ট এটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি আছে তাদের জন্য এস্পিরিন
অবশ্যই একটা উপায়। তবে আমাদের অবশ্যই আমাদের ব্যাক্তিগত চিকিৎসক এস্পিরিন গ্রহনের ক্ষেত্রে
যে পরামর্শ দেন, সেটা মেনে নিতে হবে। তবে যাদের বয়স ৭০ এর উপরে এবং সুস্থসবল,
তাদের এস্পিরিন নেবার প্রয়োজন আছে বলে এই গবেষণার ফলাফল সমর্থন করেনা।

No comments