Header Ads

  • Breaking News

    কেন লবণ খাওয়া নিয়ন্ত্রনে আনা দরকার?

    লবণ।
    শব্দটা শুনলেই জিভে পানি চলে আসে। লবণে আছে ৪০% সোডিয়াম এবং ৬০% ক্লোরিন, দুটি মিলে হয় NaCl। আমরা যে লবণ খাই তা মূলত এই যৌগই। লবনের ইংরেজী হল Salt। এসেছে Salus শব্দ থেকে, রোমান দেবী, যাকে স্বাস্থ্য ও সুস্থতার দেবী ধরা হত। ইমোরী ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর শ্যারন এইচ বারগকোয়েস্ট, এমডি বলেন “লবণের জন্য আমরা পাগল হয়ে থাকি। প্রাচীনকালে এইসব প্রধান খনিজ গুলি সহজে পাওয়া যেত না। তখন থেকে আমাদের শরীর এমনভাবে বদলে যেতে শুরু করে যেন আমাদের প্রয়োজনী খাবার সংগ্রহে আমরা আগ্রহী থাকি।“
    লবণ যুক্ত খাবার।
    পপকর্ণ, চিপস, বিস্কিট এই সব স্ন্যাক জাতীয় খাবার আমরা প্রায় প্রতিদিনই খাচ্ছি। খারাপ খবর হল এইসব প্রক্রিয়াজাত খাদ্য তৈরির সময় প্রচুর লবণ ব্যবহার করা হয়। “লবণের যে সোডিয়াম থাকে, সেটাই আমদের অঙ্গের সবচেয়ে বেশী ক্ষতি করে। যখন শরীরে অতিরিক্ত লবণ প্রবেশ করে, আমাদের কিডনী যতটুকু পারে খুব দ্রুত বের করে দিতে চায়। এরপরও কিছু সোডিয়াম শরীর জমে যায়। তখন শরীর সেটার ঘনত্ব কমানোর জন্য পানি ধরে রাখে। এই ধরে রাখা পানি রক্তের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় যা শেষ পর্যন্ত রক্তের চাপও বাড়ায়। রক্তচাপ বাড়লে হৃদপিণ্ড, কিডনী বা ব্রেইনের মত অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।“ বলেন বারগকোয়েস্ট। সোডিয়াম আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্ট্রোলাইট। ইলেক্ট্রোলাইট হল সেসব খনিজ পদার্থ যেগুলি যা আমাদের শরীরে থাকা তরল পদার্থের সাথে দ্রবীভূত হয়। ইলেক্ট্রোলাইটের পরিমাণ অনেক শারীরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রন করে যেমন হাইড্রেশন, ব্রেইনে ও ব্রেইন থেকে অন্য জায়গাতে সিগন্যাল পাঠানো, রক্তচাপ, স্নায়ু ও পেশীগুলির সঠিকভাবে কাজ করার সক্ষমতা। সবচেয়ে বড় কথা হল ইলেক্ট্রোলাইটের পরিমাণের উপর নির্ভর করবে আমাদের শরীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে বেশী পরিশ্রম করতে থাকা পেশী হৃদপিণ্ডের কার্যক্রম। অতিরিক্ত সোডিয়ামের কারণে হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে। যদি যথেষ্ট পরিমাণ সোডিয়াম না থাকে তবে হাইপোনেট্রেমিয়া দেখা দিতে পারে।
    কোনটা বেশী খারাপ? খুব বেশী না কি খুব কম?
    এর উত্তরে বারগকোয়েস্ট বলেন “কিছু কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে যে খুব কম সোডিয়াম কিছু কিছু অসুস্থতার মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু বড় কথা হল আমরা প্রচুর লবণ খাই। যদি এখনকার কথা ধরি তাহলে দেখা যাবে আমরা দিনে প্রায় ৩৪০০ মিলিগ্রাম খাই, দেড় চা চামচের সমান, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, সাথে হার্ট এটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ায়। আমরা লবণ ছাড়া বাচতে পারি না। আমাদের শরীরের ফ্লুইড ব্যালান্স এবং স্নায়ুগুলি ঠিক মত কাজ করতে কিছু পরিমাণ লবণ অবশ্যই দরকার। সর্বনিম্ন কতটুকু তা এখনও নিশ্চিত না হতে পারলেও এটা মাত্র ২০০ মিলিগ্রামের মত। আমরা দিনে যা খাই তার চেয়ে এটা প্রায় ১৭ ভাগ কম।
    আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন দিনে ২৩০০ মিলিগ্রামের কম সোডিয়াম গ্রহনের পরামর্শ দেয়। আবার এমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশন বলে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ১৫০০ মিলিগ্রামের বেশী এবং ২০০-৫০০ মিলিগ্রামের কম সোডিয়াম গ্রহণ করা ঝুঁকিপূর্ণ। তবে বারগকোয়েস্টের মতে যাদের বয়স চার বছরের কম এবং ৫১ বছরের বেশী তাদের সোডিয়াম গ্রহন ১৫০০ মিলিগ্রামের বেশী হওয়া উচিত নয়। লবণ গ্রহনের নিরাপদ সীমা কতটুকু সেই ব্যাপারে নানা বিতর্ক আছে। 
    ৭০-৮০% লবণ আমাদের শরীরে আসে প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে। তাই যদি সোডিয়াম গ্রহনের পরিমাণ কমাতে চান তবে এইসব প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ নিয়ন্ত্রনে আনা দরকার। এই সব সংখ্যাগুলি দেখে একজন হাইপারটেনশনের রোগী তার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনের রাখতে পারার ক্ষেত্রে হয় আশাবাদী হবেন, এজন্য তাকে শুধু লবণ খাবার পরিমাণ কমাতে হবে।
    ড্যাশ ট্রায়াল।
    এর মানে হল “ডায়েটারী এপ্রোচেস টু স্টপ হাইপারটেনশন।“ এই ট্রায়ালে সোডিয়ামের পরিমাণের সাথে যে রক্তচাপের সম্পর্ক আছে সেটা প্রমাণিত হয়। এতে পরিস্কার হয় যে যদি কম সোডিয়াম গ্রহন করা হয় তবে রক্তচাপও কমবে। এই ট্রায়ালের প্রথম ধাপে ফল, সবজি, কম ফ্যাটের দুগ্ধজাত খাবার এবং অল্পকিছু লাল মাংস, স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং মিস্টি জাতীয় খাবার খেতে দেয়া হয়। দেখা যায় যে রক্তচাপ কমে গেছে। দ্বিতীয় ধাপে সোডিয়ামের পরিমাণের তিনটি ধাপ নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়। এই ধাপে স্বেচ্ছাসেবীরা তার খাবারে লবণের পরিমাণ পরিবর্তন করা ছাড়া তার দৈনন্দিন খাবার গ্রহণের অন্যান্য ব্যাপারগুলি অপরিবর্তনীয় রাখে। এতেও প্রমাণিত হয় যে সোডিয়াম কম খেলে রক্তচাপও কম থাকে।  
    তাই আজ থেকেই অতিরিক্ত লবণ আছে এমন সব খাবারকে বিদায় জানান। নিয়মিত ফলমূল, শাকসবজি, ডাল, বীচি ও বীজ জাতীয় খাবার খান। এগুলিতে প্রাকৃতিকভাবেই সোডিয়ামের পরিমাণ কম থাকে। তাছাড়া এসব খাবারে থাকে পটাশিয়াম, যার কাজ করে সোডিয়ামের ঠিক উল্টোভাবে। পটাশিয়াম রক্তনালীকে নরম করে এবং রক্তচাপ কমায়। যারা ঘাম ঝরানো পরিশ্রম করেন তাদের সোডিয়ামের বদলে অন্য কোনও ইলেক্ট্রোলাইট নেয়া উচিত।

    No comments

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad