যদি প্রকৃতি বায়ুশুন্যতা ঘৃণা করে তবে মহাকাশের বায়ুশুন্যতা কেন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে টেনে নিচ্ছে না?
আমাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা এটাই বলে যে বায়ুশুন্যতা বা
ভ্যাকুয়াম প্রকৃতি পছন্দ করে না। পৃথিবীতে যদি কোন পাত্রে ভ্যাকুয়াম অবস্থা সৃষ্টি
করা হয়, তবে যদি সুযোগ দেয়া হয় তবে প্রকৃতি খুবই দ্রুত বাতাস দিয়ে তা পূরণ করে
ফেলে।
অন্যদিকে মহাকাশ একটি বিশাল ভ্যাকুয়াম। মহাকাশ পৃথিবীর চেয়ে অসীম গুণ বড়। এর ৯৯.৯৯৯৯৯...% ই হল বায়ুশূন্য। তাই প্রকৃতি ভ্যাকুয়াম ঘৃণা
করে না বলে বলা উচিত প্রকৃতি ভ্যাকুয়াম ভালবাসে। তাহলে মহাকাশের ভ্যাকুয়াম কেন পৃথিবীর
বায়ুমণ্ডলকে টেনে নেয় না?
ধরা যাক আপনি পৃথিবীতে একটি কাঁচের বোতল নিয়ে দাঁড়িয়ে
আছেন। একটি ভ্যাকুয়াম পাম্প বোতলটির মুখে লাগানো হল এর ভেতরের সব বাতাস বের করে ফেলার
জন্য। এখন বোতলে যদি একটি ছোট ছিদ্র করা হল। বাতাস খুবই দ্রুত গতিতে ভেতরে ঢুকে যাবে।
দ্রুত ঢুকে পড়ার কারণ হল বোতলের চারপাশে বাতাসের চাপ আছে। আমরা পৃথিবীর মাটিতে দাঁড়িয়ে
আছি তার মানে হল বাতাসের মহাসাগরের একদম তলদেশে দাঁড়িয়ে আছি। বাতাসের অণুগুলি একটি
আরেকটির উপর জমে মাটির উপর প্রতি ইঞ্চিতে ১৪.৭ পাউন্ড চাপ তৈরি করছে। বায়ুমন্ডলের যত
উপরে যাওয়া যায়, এই চাপের পরিমাণ তত কমতে থাকে। এই চাপের কারনেই ভ্যাকুয়াম সৃষ্টি
করা একটি বোতলে ছিদ্র করা হলে বাতাস অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সেই ভ্যাকুয়াম পুরণ করে
ফেলে।
রকেটে করে যদি বায়ুমন্ডলের একদম উপরের সীমায় ভ্রমণ
করা যায়, বোঝা যাবে সেখানে কোন বায়ুর চাপ নেই। সেখানে বায়ুর অণুর ঘনত্ব এতটাই কম যে
প্রতিটি অনুই প্রায় এককভাবে দ্রুত গতিতে ছোটাছুটি
করছে। অণুগুলি যতই দ্রুত গতিতে ছুটতে থাকুক না কেন অণুগুলির ছোটাছুটির দিক থাকে
কিন্তু পৃথিবীর দিকেই। কারণ পৃথিবীর গ্র্যাভিটি। বাতাসের অণুগুলিকে মহাকাশের
ভ্যাকুয়াম আকৃষ্ট করতে পারে কারণ এই ভ্যাকুয়ামের কোন টেনে নেয়ার কোনও শক্তি নেই।
মহাকাশের এই ভ্যাকুয়ামে একটি অণু শুধু ছোটাছুটিই করে।
তাই আমাদের পৃথিবীর বায়ুমন্ডলকে মহাকাশের বায়ুশুন্যতা টেনে নিতে পারবে এমন
কোনও ভয় নেই। কিন্তু এমন না যে মহাকাশের অন্য কোনও শক্তি আমাদের বায়ুমণ্ডলকে সরিয়ে
দিতে পারবে না। সূর্য থেকে উৎপন্ন হওয়া সৌরবাতাসের এই শক্তি আছে। ভাগ্য ভাল, যে পৃথিবীর
একটি শক্তিশালী ম্যাগনেটিক ফিল্ড আছে, যার কারণে সৌরবাতাস থেকে পৃথিবী নিরাপদ থাকে।

No comments