উল্কা যখন পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে তখন সেটা পুড়তে থাকে, কিন্তু মহাকাশযান না পুড়ে পৃথিবীতে ফেরত আসে কিভাবে?
যখন একটি উল্কা পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে তখন এটি ভ্যাকুয়াম থেকে বাতাসে
প্রবেশ করে। ভ্যাকুয়ামে কোন বস্তুকে ভ্রমণ করতে কোনও শক্তির দরকার হয় না। কিন্তু
বাতাসের মাঝে দিয়ে ভ্রমণ করাটা একটি আলাদা ব্যাপার।
একটি উল্কা যখন ভ্যাকুয়ামে চলতে থাকে তখন সেটার গতিবেগ ঘন্টায় হাজার মাইলের বেশী
হতে পারে। যখন সেই উল্কা বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে তখন তার সামনের বাতাস অবিশ্বাস্য
দ্রুততার সাথে ঘন হওয়া শুরু করে। এর ফলে তাপমাত্রাও বাড়তে থাকে। এই জন্য উল্কার তাপমাত্রা
এতটাই বেড়ে যায় যে এটি জ্বলতে থাকে। বায়ুমন্ডলে ঢুকে পড়া একটি উল্কার তাপমাত্রা
১৬৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াসও হতে পারে।
বায়ুমন্ডল দিয়ে কোন মহাকাশযান বায়ুমন্ডলে ফেরত আসার সময় পুড়ে যাচ্ছে এই দৃশ্য মোটেও
কাম্য নয়। আগুন ধরা প্রতিরোধ করার জন্য সাধারণত দুটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়ঃ
- এব্লেটিভ
টেকনোলজি।
- ইন্সুলেটিং
টাইল টেকনোলজি।
এব্লেটিভ টেকনোলজিতে এক ধরনের প্রতিরক্ষা পরত ব্যবহার করা হয় যেটি বায়ুমণ্ডলে ঢোকার
সময় উত্তপ্ত হয়ে গলে যায়। ফলে যে তাপ উৎপন্ন হয় তা এই প্রতিরক্ষা পরত শুষে নেয়। এপোলো
স্পেসক্র্যাফট গুলিতে এই টেকনোলজি ব্যবহার হয়েছে।
ইন্সুলেটিং
টাইল টেকনোলজিতে স্পেস শাটলে এক বিশেষ ধরণের সিলিকা টাইলস ব্যবহার করা হয়। সিলিকা বা সিলিকন
ডাই অক্সাইড অবিশ্বাস্য ভাল ইন্সুলেটর। এরোব্রেকিং টাইলস তৈরি করা হয় সিলিকা
ফাইবার দিয়ে। একে চাপে ও তাপে এর পোরোসিটি ৯৩% করা হয় যার কারণে এর ভর হয় খুবই
পাতলা, প্রচন্ড উত্তাপে আকারে বৃদ্ধি পেতে পারে, তাপ পরিবহন ক্ষমতা কমে যায় এবং
তাপমাত্রা হঠাত ওঠানামা সহ্য করতে পারে। এই সিলিকা টাইলস বায়ুমন্ডলের ফেরত আসার সময়কার
উচ্চ তাপমাত্রাকে স্পেস শাটলের আসল শরীরকে স্পর্শ করতে দেয় না।

No comments