ভয়েজার কিভাবে পৃথিবীতে রেডিও ম্যাসেজ পাঠাতে পারে?
এখন পর্যন্ত ভয়েজার এর দুটি স্পেস প্রোব মহাকাশে পাঠানো হয়েছে। ভয়েজার-১ ও
ভয়েজার-২। দুটি স্পেস প্রোবই সৌরজগতের সীমানা পার হয়ে মূল মহাকাশে প্রবেশ করেছে। এখন
তারা পৃথিবী থেকে কতদূরে আছে তা জানতে এখানে ঘুরে আসতে পারেন। সৌরজগতের সীমানা পার
হবার আগে এই দুটি স্পেস প্রোব বৃহস্পতি, শনি ও নেপচুনের অসংখ্য ছবি তুলে পৃথিবীতে
পাঠিয়েছে। এত দূরে থাকার পরও তারা পৃথিবীতে বার্তা পাঠাতে পারে। কিন্তু কিভাবে?
দুটি প্রোবই ২৩ ওয়াটের রেডিও ব্যবহার করে। আমাদের ফোনে থাকে সাধারণত ৩ ওয়াটের।
কিন্তু মহাকাশের আকারের কথা চিন্তা করলে ২৩ ওয়াট কোন ব্যাপারই না। বড় বড় রেডিও
স্টেশন প্রতিদিন হাজার হাজার ওয়াটের ট্রান্সমিশন করে এবং তা বেশ দ্রুতই হারিয়ে যায়।
তবে রেডিও ম্যাসেজ গ্রহনের জন্য রেডিওর পাওয়ার বড় ব্যাপার নয়, অন্য তিনটি
ব্যাপারে সম্মিলিত কার্যকারিতাই আসল।
- বেশ বড়
এন্টেনা।
- ডিরেকশনাল
এন্টেনা যেগুলি প্রেরক ও গ্রাহকের দিকে মুখ করে আছে।
- মানুষের
কারণে ব্যহত না হওয়া রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি।
ভয়েজারের প্রোবগুলিতে যে এন্টেনা ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলি আসলেই অনেক বড়। অনেকেই
হয়ত মানুষের বাড়ির ছাদে বা উঠানে বসানো বিশাল বিশাল ডিশ এন্টেনা দেখে থাকবেন। এগুলোর
ব্যাস সাধারণত ৬ থেকে ১০ ফিট হয়ে থাকে। ভয়েজার প্রোবগুলির এই ধরণের এন্টেনার ব্যাস
হল ১৪ ফিট। যেটা দিয়ে এই রেডিও মেসেজ গুলি গ্রহন করা হয় সেই এন্টেনার ব্যাস হল ১০০
ফিট। ভয়েজার প্রোবগুলির এন্টেনা ও পৃথিবীর এই এন্টেনা একটা আরেকটার দিকে তাক করা।
ভয়েজার প্রোব আট গিগাহার্টজে রেডিও মেসেজ পাঠায়, এই ফ্রিকোয়েন্সিতে পৃথিবীতে খুব
বেশী রেডিও অপারেট করে না। সেই সাথে পৃথিবীতে থাকা এন্টেনাতে খুবই সংবেদনশীল এমপ্লিফায়ার
ব্যবহার করা হয়। তাই প্রাপ্ত সিগন্যাল যতই দুর্বল হোক না কেন তা সংগ্রহ করতে পারা যায়।
যখন পৃথিবী থেকে ফিরতি মেসেজ পাঠানো হয় সেটার ক্ষমতা হয় কয়েক হাজার ওয়াট, যাতে ভয়েজার
প্রোব ভালভাবে মেসেজ গ্রহন করতে পারে।

No comments