পৃথিবীতে জ্বালানো একটি টর্চের আলো চাঁদ থেকে দেখা যাবে?
এটা একটা ভাল প্রশ্ন। এর উত্তর জানতে হলে আপনাকে জানতে হবে আলো কিভাবে কাজ
করে। একটি টর্চ জ্বালানো মানে হল ফোটনের একটি উৎপত্তিস্থল সুইচ অন করা। ফোটন
তৈরি হবার সাথে সাথে উৎস ত্যাগ করে এবং কোণ আকৃতির (ছবির মত) একটি বীম তৈরি করে ছড়িয়ে
পড়ে। আমরা কখন কোনও বস্তুকে দেখি? যখন কোনও বস্তু থেকে আলো এসে আমাদের রেটিনাতে পড়ে,
তখন দেখি। তার মানে টর্চ থেকে উৎপন্ন হওয়া এই ফোটন যদি কোনও দৃষ্টি যন্ত্র যেমন
চোখ বা দূরবীন বা টেলিস্কোপকে আঘাত না করছে, ততক্ষণ ফোটন সেই উৎস অর্থাৎ টর্চ কে
দেখা যাবে না। উৎস থেকে যতক্ষণে এই ফোটনগুলি প্রায় ২৪০ হাজার মাইল দূরের চাঁদে পৌঁছাবে,
তখন সেই ফোটনের তৈরি হওয়া কোনের দুই বাহুর বাইরের বিন্দুর দুরত্ব এত বেশী হবে যে,
খুব বেশী ফোটন চাঁদে আঘাত করবে না। কারণ ফোটনের ঘনত্ব কমে যাচ্ছে।
তাই এ প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে টর্চের এবং চোখের আকারের উপর। যদি টর্চ মানে
একটি পেনলাইট হয় যেটিতে দুটি ডাবল এ ব্যাটারী থাকে এবং চোখ মানে যদি হয় আমাদের খালি
চোখ, তবে উত্তর হবে “না। দেখা যাবে না।“ পেনলাইট যে কোণ তৈরি করবে তা চাঁদ পর্যন্ত
পৌছাতে পৌছাতে খুবই বড় হবে এবং উৎপন্ন হওয়া ফোটনের ঘনত্ব হবে খুবই কম। এখন যদি
আলোর উৎস হিসেবে বিমানের সার্চলাইট ব্যবহার করা হয় এবং চোখ হিসেবে যদি টেলিস্কোপ
ব্যবহার করা হয় তবে হয়ত সেই টেলিস্কোপে
সার্চলাইটের আলো দেখা যাবে।
যদি আলোর উৎস হিসেবে লেজার ব্যবহার করা হয় তবে ঘটনাটা অন্য হবে। কারণ লেজার ছোঁড়ার
সময় যে কোণ তৈরি হয় তা হয় খুবই ছোট। উদাহরণ হিসেবে এই আর্টিকেলটি পড়তে পারেন। এখানে
এমন একটি লেজার ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে যেটি পৃথিবী থেকে জ্বালালে চাঁদে পড়লে যে
বৃত্তের তৈরি করে তার ব্যাস হয় এক কিলোমিটারের মত। ফোটন যা বের হয়েছিল লেজারের উৎস
থেকে তা প্রায় সবটুকুই আছে এই বৃত্তের মাঝে। এই বৃত্তের মাঝে কোনও দর্শক থাকলে সে
লেজার লাইট টা দেখতে পাবে।
এখন মনে করা যাক যিনি পরীক্ষা করছেন, তিনি লেজার ব্যবহার করতে চান না। এক্ষেত্রে
যদি চোখের বদলে একটি টেলিস্কোপ ব্যবহার করা হয়, তবে টর্চের আলো দেখার সম্ভবনা আছে।
কারণ টেলিস্কোপে যে আয়না বা লেন্স থাকে তা অনেকখানী জায়গার আলো একত্রিত করতে পারে।
এজন্য জ্যোতির্বিদেরা অনেক দূরের নক্ষত্র পর্যবেক্ষণের জন্য বড় বড় আয়নাওয়ালা
টেলিস্কোপ ব্যবহার করেন। টর্চের তুলনায় নক্ষত্রের দুরত্ব্ব অনেক বেশী বা আলোর তীব্রতা
খুব কম হলেও টেলিস্কোপ দিয়ে এগুলো দেখা সম্ভব হয় টেলিস্কোপ আলো একীভূত করতে পারে সে
জন্য।
হাবল স্পেস টেলিস্কোপের
সাহায্যে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এখন নক্ষত্র আগের তুলনায় অনেক ভাল করে দেখতে পান। বলা
হয় যে প্লুটোতে যদি একটি দিয়াশলাই জ্বালানো হলেও হাবল স্পেস টেলিস্কোপ দিয়ে সেটা বুঝতে
পারা যাবে।

No comments