যেভাবে স্যাটেলাইট বা কৃত্তিম উপগ্রহ কাজ করে। ১১ম পর্ব।
স্যাটেলাইট
কক্ষপথে পাঠাতে কত খরচ হয়?
স্পুটনিক
ও এক্সপ্লোরার কক্ষপথে পাঠাবার পর থেকে স্যাটেলাইট দিন দিন বড় ও জটিল হচ্ছে। টেরেস্টার
১ স্যাটেলাইট পাঠানো হয়েছিল নর্থ এমেরিকার ফোন গুলিতে ডেটা পাঠানোর জন্য। এটি ২০০৯
সাথে কক্ষপথে পাঠানো হয়, এর ভর ছিল ১৫,২৩৩ পাউন্ড বা ৬,৯১০ কেজি। যখন এটাকে সম্পূর্ণ
প্রসারিত করা হয় এর এস-ব্যান্ডের এন্টেনার দৈর্ঘ্য হ্য় ৬০ ফিট এবং সোলার প্যানেল যখন
প্রসারিত করা হয় তখন সর্বশেষ অবস্থার দৈর্ঘ্য হয় ১০৬ ফিট।
এরকম
একটি জটিল মেশিন বানানোর জন্য অনেক জিনিসপত্র দরকার। একারণে ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়
যে সরকারী সংস্থাগুলি যাদের অনেক অর্থশক্তি ছিল তারাই স্যাটেলাইট পাঠাতে পারত। এসব
খরচের প্রায় সবটুকুই ছিল যেসব যন্ত্রপাতি স্যাটেলাইটে পাঠানো হয় সেগুলির খরচ। একটি
আবহাওয়ার স্যাটেলাইট প্রায় ২৯০ মিলিয়ন ডলারের যন্ত্রপাতি বহন করে। একটি এসপিওনাজ
স্যাটেলাইটের খরচ পড়ে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার। এরপর আছে সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণের খরচ।
যারা স্যাটেলাইট ব্যবহার করে তাদের ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট খরচ করতে হয়,
যেমন ফোন ব্যবহারের জন্য গ্রাহকদের খরচ করতে হয়। এই ব্যান্ডউইথের খরচ বছরে প্রায় ১.৫
মিলিয়ন ডলার হতে পারে।
স্যাটেলাইটের
খরচের আরেকটি বড় অংশ হল স্যাটেলাইটের লঞ্চ। স্যাটেলাইট লঞ্চ করতে খরচ হয় ১০ মিলিয়ন
থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার। পেগাসাস এক্সএল এর মত একটি ছোট লঞ্চ ভেহিক্যাল প্রায় ৪৪৩
কিলোগ্রাম বা ৯৭৬ পাউন্ড ভর উত্তোলন করতে পারে। এটার সাহায্যে লো আর্থ অরবিটে পাঠাতে
খরচ হয় প্রায় ১৩.৫ মিলিয়ন ডলার। তার মানে প্রতি পাউন্ডে খরচ হয় প্রায় ১৪,০০০ ডলার।
অন্যদিকে এরিয়েন ৫জি রকেট প্রায় ১৮,০০০ কিলোগ্রাম বা ৩৯,৬৪৮ পাউন্ড ভর উত্তোলন
করতে পারে যাতে কোনও স্যাটেলাইট লো আর্থ অরবিটে পাঠাতে খরচ হয় প্রায় ১৬৫ মিলিয়ন ডলার।
এতে প্রতি পাউন্ডে খরচ হয় ৪,১৬২ ডলার।
স্যাটেলাইট
তৈরি, কক্ষপথে পাঠানো এবং তা পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য অনেক খরচ ও ঝুঁকি আছে,
তারপরও অনেক কোম্পানী স্পেস টেকনোলজীর ব্যবসা শুরু করেছে। বোয়িং হল এমন একটি
কোম্পানী। বোয়িং এর ডিফেন্স, স্পেস এবং সিকিউরিটি বিভাগ ২০১২ সালে ১০টি স্যাটেলাইট
তৈরির কাজ শেষ করে এবং আরও ৭টি স্যাটেলাইটের কাজ গ্রহন করে। এতে বোয়িং এর প্রায় ৩২
বিলিয়ন ডলার রেভিনিউ আসে।

No comments