মঙ্গলে ব্লুবেরীর মত দেখতে এগুলো আসলে কি?
২০০৪ সালে নাসা’র অপরচুনিটি রোভার যখন মঙ্গলে পৌছায়, তখন প্রোবটি একটি অদ্ভুত
দেখতে ব্যাপারের সন্ধান পায়। ছোট ছোট অনেক গোল গোল পাথর, যাদের বেশিরভাগের ব্যাস
মোটামুটি ০.৩ সেন্টিমিটারের মত, মঙ্গলের মাটিতে পড়ে আছে। এগুলোর রঙ ঘন নীল। জিনিস
গুলিতে হেমাটাইটের ঘনত্ব অনেক বেশী। হেমাটাইট হল লোহার অক্সাইড। নাসার দেয়া তথ্য
মতে এই ছোট ছোট গোলাকার পাথর অপরচুনিটির চলার পথে কিছুটা বাধার সৃষ্টি করেছিল। এই
পাথরগুলি অপরচুনিটি প্রোবের যে যন্ত্রটি দিয়ে মাটি চূর্ণ করে স্যাম্পল সংগ্রহ করা
হয়, সেটাকে বাঁধা দিচ্ছিল।
ছোট ছোট এই পাথরগুলিকে বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছিলেন “ব্লু বেরী।“ মঙ্গলের এই
ব্লুবেরী খাওয়া না গেলেও এর রহস্য আছে। কারণ বিজ্ঞানীরা জানতেন না এই পাথরগুলি
কিভাবে এখানে তৈরি হয়েছে এবং মঙ্গলের ইতিহাসে এদের ভূমিকা কি। একদল বিজ্ঞানী এই
ব্যাপারে একটি তত্ব দিয়েছিলেন। তাদের মতে এই সব ব্লুবেরী আসলে আগ্নেয়গিরির উদ্গীরনে
বেরিয়ে আসা ভলকানিক ছাই। যখন এটি আগ্নেয়গিরির উত্তপ্ত অবস্থা থেকে তুলনামূলক শীতল
পরিবেশে আসে, তখন এগুলো এরকম গোলাকার আকৃতি পায়। আবার অনেকের মতে মঙ্গলে যখন পানি প্রবাহিত
হত তখন বিভিন্ন পাথরখন্ড পানির সাথে ভেঙ্গে আসে। দীর্ঘদিন স্রোতে থাকার ফলে পাথরগুলি
তাদের আদি আকৃতি হারিয়ে এরকম গোল হয়ে গেছে। ২০১৪ সালে কিছু বিজ্ঞানী বলেন এগুলো আসলে
মঙ্গলের বাইরে থেকে আসা ছোট উল্কা। আর্টিকেলটি এখানে পাবেন।
২০১৮ সালে ডিসেম্বর মাসে
সায়েন্টিফিক এডভান্সেস জার্নালে একদল জাপানী, মঙ্গোলিয়ান ও ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা ২য় তত্ত্বকে
সমর্থন করে একটি প্রকাশনা প্রকাশ করে। তারা পৃথিবীতে প্রায় একই রকম দেখতে লোহার খনি
নিয়ে গবেষণা করে ছিলেন। মঙ্গলের এই বলগুলিতে এসিড সালফেট ওয়াটার পাওয়া গেছে। এ থেকে
তারা প্রমাণ পান যে এগুলো হয়ত প্রাচীনকালে যখন মঙ্গলে ঘন বায়ুমন্ডল ছিল, তখন তৈরি
হয়েছে। কিন্তু আরও একটি লেখা প্রকাশ হয়, যেখানে বলা হয় আরও উন্নতমানের যন্ত্রপাতির
সাহায্য ছাড়া ব্লুবেরীর আসল রহস্য বিজ্ঞানীরা বের করতে পারবেন না, মার্স ২০২০
রোভারে এরকম যন্ত্রপাতি থাকবে। কিন্তু সমস্যা হল মার্স ২০২০ মঙ্গলের অন্য জায়গাতে
গবেষণা চালাবে।

No comments