যেভাবে স্যাটেলাইট বা কৃত্তিম উপগ্রহ কাজ করে। ৫ম পর্ব।
একটি স্যাটেলাইটের
ভেতরে সাধারণত কি কি থাকে?
এসব কিছু
একসাথে করা মোটেও সহজ কাজ নয়। বছরের পর বছর চলে যায়। সবকিছুর শুরু হয় মিশনের উদ্দেশ্য
জানার পর। মিশনের উদ্দেশ্য জানার পরই ইঞ্জিনিয়ার রা নির্ধারণ করেন তাতে কিকি যন্ত্রপাতি
লাগবে এবং কিভাবে সেগুলো সংগ্রহ বা তৈরি করতে হবে। এরপর যখন এগুলোর জন্য প্রয়োজনীয়
বাজেট পাওয়া যায় তখন শুরু হয় স্যাটেলাইট তৈরির কর্মযজ্ঞ। স্যাটেলাইট তৈরি করা হয় একটি
বিশাল আকৃতির পরিস্কার কক্ষে। ঘরটিতে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রন
করা হয়। ঘরটি হতে হয় সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত।
স্যাটেলাইট
বিভিন্ন আকার ও আকৃতির হতে পারে, তাদের কাজের মাঝেও ভিন্নতা থাকতে পারে। কিন্তু কিছু
কিছু জিনিস প্রায় সব স্যাটেলাইটেই থাকে
- সব স্যাটেলাইটেরই একটা ধাতব
শরীর থাকে, যাকে বলা হয় “বাস।“ একটা স্যাটেলাইটের ভেতর যা কিছু থাকে সব কিছু ধারণ করে
বাস। উৎক্ষেপণের সময় যে প্রতিকূল পরিবেশের সৃষ্টি হয় তাতে স্যাটেলাইট টিকবে কিনা তাও
নির্ভর করে বাসের সহ্য ক্ষমতার উপরে।
- সব স্যাটেলাইটেরই শক্তির
একটি উৎস থাকে। সাথে ব্যাটারী থাকে শক্তি সঞ্চয় করে রাখার জন্য। ব্যাটারী গুলি সাধারণত
রিচার্জেবল হয়। মহাকাশের শক্তি পাবার একমাত্র উৎস হল সূর্য, তাই এতে কয়েক সারির সোলার
প্যানেল লাগানো থাকে। এখন অবশ্য এই ডিজাইনে কিছু পরিবর্তন এসেছে। কোনও কোনটাতে ফিউল
সেল ব্যবহার হচ্ছে। অন্য গ্রহে পাঠানো স্পেস প্রোবগুলিতে নিউক্লিয়ার পাওয়ার ব্যবহার
করা হয়। এই পাওয়ার সিস্টেম পৃথিবী থেকে সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
- স্যাটেলাইটের বিভিন্ন সিস্টেম
পর্যবেক্ষণ করার জন্য অনবোর্ড কম্পিউটার থাকে।
- সব স্যাটেলাইটে একটি রেডিও
সিস্টেম ও এন্টেনা থাকে। বেশিরভাগ স্যাটেলাইটেই একটি রেডিও ট্রান্সমিটার/রিসিভার থাকে
যাতে গ্রাউন্ড কন্ট্রোল কেন্দ্রে থাকা কেউ স্যাটেলাইটের বিভিন্ন তথ্যাবলী সংগ্রহ করতে
পারে এবং স্যাটেলাইট কেমন চলছে তা নিরূপণ করতে পারে। অনেক স্যাটেলাইট মাটি থেকেই বিভিন্নভাবে
নিয়ন্ত্রন করা হয় যেমন স্যাটেলাইটের কম্পিউটারে প্রোগ্রামের মাধ্যমে কক্ষপথের কিছুটা
পরিবর্তন করা।
- প্রায় প্রত্যেক স্যাটেলাইটেই
একটি এটিচুড কন্ট্রোল সিস্টেম বা ACS থাকে, যার কাজ স্যাটেলাইটকে সঠিক দিকে রাখা যায়।
এসব কিছু
একসাথে করা মোটেও সহজ কাজ নয়। বছরের পর বছর চলে যায়। সবকিছুর শুরু হয় মিশনের উদ্দেশ্য
জানার পর। মিশনের উদ্দেশ্য জানার পরই ইঞ্জিনিয়ার রা নির্ধারণ করেন তাতে কিকি যন্ত্রপাতি
লাগবে এবং কিভাবে সেগুলো সংগ্রহ বা তৈরি করতে হবে। এরপর যখন এগুলোর জন্য প্রয়োজনীয়
বাজেট পাওয়া যায় তখন শুরু হয় স্যাটেলাইট তৈরির কর্মযজ্ঞ। স্যাটেলাইট তৈরি করা হয় একটি
বিশাল আকৃতির পরিস্কার কক্ষে। ঘরটিতে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রন
করা হয়। ঘরটি হতে হয় সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত।
তৈরি হওয়া
একেকটি স্যাটেলাইটের কাজ একেক রকমের হয়। কিছু কিছু কোম্পানী একটি নির্দিষ্ট মডেল বানিয়ে
রাখে, তারপর চাহিদা অনুসারে তার আকারের পরিবর্তন করা হয়। যেমন বোয়িং ৬০১ সিরিজের স্যাটেলাইটগুলির
দুটি সাধারণ মডিউল আছে। একটি চেসিস ব্যবহার করা হয় প্রপালশান সাবসিস্টেম, বাস ইলেক্ট্রনিক্স
এবং ব্যাটারী প্যাক থাকে এবং একটি হানিকম্ব শেল্ভ থাকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ধারণ করার
জন্য। এতে ইঞ্জিনিয়াররা প্রস্তাবকৃত স্যাটেলাইট সহজেই বানিয়ে ফেলতে পারেন।
No comments