Header Ads

  • Breaking News

    যেভাবে স্যাটেলাইট বা কৃত্তিম উপগ্রহ কাজ করে। ৪র্থ পর্ব।


    স্যাটেলাইট ও স্পেস জাঙ্কের মাঝে পার্থক্য কি?
    জাঙ্ক মানে হল আবর্জনা। স্যাটেলাইট বলতে তাকেই বোঝা যেটি গ্রহ বা তার চেয়ে ছোট কোনও মহাজাগতিক বস্তুকে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথ অনুসরণ করে প্রদক্ষিণ করে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা চাঁদকে প্রাকৃতিক স্যাটেলাইট বলেন। চাঁদ বলতে এখানে অন্যান্য গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকা উপগ্রহগুলিকেও বোঝানো হয়েছে। পৃথিবীর না হয় একটি মাত্র চাঁদ, বৃহস্পতির এরকম চাদের সংখ্যা ৬০ এরও বেশী। 
    মানুষের তৈরি জিনিস স্পুটনিক বা এক্সপ্লোরারকেও স্যাটেলাইট বলা হচ্ছে, কারণ অন্যান্য চাদের মত এগুলোও কিছু না কিছুকে প্রদক্ষিণ করছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে মানুষ যখন এসব জিনিস মহাকাশে দেয়া শুরু করেছে, তখন থেকেই তাঁরা স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণের সময় নানা ধরণের আবর্জনাও নিয়ে যাচ্ছে। এগুলোকেই বলা হচ্ছে স্পেস জাঙ্ক বা ডেব্রীজ। মহাকশের যে পরিবেশ, তাতে এই সব আবর্জনার প্রতিটি একেকটি রকেটের মতই আচরণ করে, পৃথিবীর চারিদিকে তার খুবই দ্রুতগতিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যদি স্যাটেলাইটের সংজ্ঞাতে ভাবেন, তবে একেকটি স্পেস ডেবরী একেকটি স্যাটেলাইট। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা কৃত্তিম উপগ্রহের মর্যাদা সেটাকেই দেন, যেটি কোনও না কোন কাজ করতে পারে। বাকীদের তাঁরা “অরবিটাল ডেব্রীজ” বলতেই পছন্দ করেন।

    নাসার “অরবিটাল ডেব্রীজ প্রোগ্রাম” অনুসারে কমপক্ষে ১০০ মিলিয়ন খন্ড অরবিটাল ডেবরী আছে যেগুলির দৈর্ঘ্য এ্ক সেন্টিমিটারের কম। কমপক্ষে ৫০০,০০০ খন্ড অরবিটাল ডেবরীর দৈর্ঘ্য ১-১০ সেন্টিমিটারের ভেতর। ২১,০০০ এরও বেশী অরবিটাল ডেব্রীজ আছে ১০ সেন্টিমিটারের বেশী দৈর্ঘ্যের। এর চেয়ে বেশী দৈর্ঘ্যের বস্তুকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা “স্পেস জাঙ্ক” এর মর্যাদা দিয়েছেন। কারণ এগুলোকে রাডার দিয়ে ট্র্যাক করা যায়। এইসব স্পেস জাঙ্কই অন্যান্য কর্মক্ষম স্যাটেলাইটের জন্য হুমকিস্বরূপ।
    অরবিটাল ডেব্রীজ তিন ভাবে পৃথিবীর কাছাকাছি মহাকাশে জমা হয়।
    -   যে রকেটে করে স্যাটেলাইট বা স্পেসক্র্যাফট মহাকাশের উদ্দেশ্যে উৎক্ষেপিত হল, তার বিভিন্ন অংশ।

    -   কোনও এস্ট্রোনটের হাত থেকে ভুলে পড়ে যাওয়া যন্ত্রাংশ। কোনও এস্ট্রোনট যদি কাজ করার সময় একটি রেঞ্চ কোনভাবে হাত ছাড়া করে ফেলেন, তবে তা অসীম সময়ের জন্য মহাকাশে থেকে গেল। তারপর সেই রেঞ্চটি পৃথিবীর চারিদিকে একটি কক্ষপথ তৈরি করবে, যে কক্ষপথে তার গতি হবে প্রতিসেকেন্ডে অন্ততঃ ১০ কিলোমিটার। এই গতি সম্পন্ন সেই রেঞ্চটি যদি কোনও মানুষবাহী মহাকাশযানকে আঘাত করে, তার ফলাফল হতে পারে খুবই মারাত্মক। লক্ষ্যবস্তু আকারে যত বড়, তাতে আঘাত লাগার সম্ভবনা তত বেশী।

    -   জেটিসনড আইটেমস, সেই জিনিসগুলি যা রকেট উৎক্ষেপণ বা স্যাটেলাইটের কাজ শেষে ফেলে দেয়া হয়। এরকম একটি উদাহরণ হল ক্যামেরার লেন্সের ক্যাপ।
    নাসা এই সব স্পেস ডেবরীর সাথে অন্য কোনও বস্তুর সংঘর্ষ হলে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে তা সম্পর্কে ভালভাবে জানতে একটি বিশেষ স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়েছিল, যার নাম হল লং ডিউরেশান এক্সপোজার ফ্যাসিলিটি বা LDEF। ১৯৮৪ সালের এপ্রিল মাসে এটি স্পেস শাটল চ্যালেঞ্জারের সাহায্যে স্থাপন করা হয় এবং ১৯৯০ সালের জানুয়ারী মাসে মিশন শেষে স্পেস শাটল কলম্বিয়ার সাহায্যে এটাকে নামিয়ে আনা হয়। এই ছয় বছরে এই স্যাটেলাইটের সাহায্য অন্ততঃ ২০,০০০ সংঘর্ষ লিপিবদ্ধ করা হয় যার কিছু অংশের কারণ মাইক্রোমিটিওরাইটস বা খুবই খুদ্র আকারের গ্রহাণুখন্ড আর বাকীদের কারণ এইসব অরবিটাল ডেব্রীজ।

    No comments

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad