Header Ads

  • Breaking News

    যেভাবে স্যাটেলাইট বা কৃত্তিম উপগ্রহ কাজ করে। পর্ব -৬।

    কিভাবে একটি স্যাটেলাইট কক্ষপথে প্রেরণ করা হয়?
    আজকের দিনে যত স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয় তার প্রায় সবগুলিই পাঠানো হয় রকেটের সাহায্যে। অনেক স্যাটেলাইট পাঠানো হয় স্পেস শাটলের কার্গোতে করে। অনেক দেশ ও ব্যাবসায়ী সংস্থার নিজেদের রকেট উৎক্ষেপণের এবং সেগুলোকে নিয়মিত নিরাপদভাবে কয়েক টন ভরের স্যাটেলাইট কক্ষপথে স্থাপনের সক্ষমতা আছে।
    স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য একটি সময়সূচী মেনে চলা হয়। উৎক্ষেপণের সময় রকেটসহ স্যাটেলাইট লঞ্চপ্যাডে লম্বালম্বি করে দাঁড় করানো হয়। এতে রকেট খুব কম সময়ের মাঝে বায়ুমন্ডলের সবচেয়ে পুরু অংশটি পার হয়ে যেতে পারে এবং জ্বালানী খরচ তুলনামূলক কম হয়ে যায়।
    রকেট লম্বালম্বি উৎক্ষেপণ করার পর “ইনারশিয়াল গাইডেন্স সিস্টেম” ব্যবহার করে রকেটের গতিপথ নিয়ন্ত্রন করা হয়। এই সিস্টেমের সাহায্যে ফ্লাইট পরিকল্পনা অনুসারে উৎক্ষেপণের পর কক্ষপথে যাবার জন্য রকেটের নাক কতটুকু বাঁকানো দরকার তার হিসাব সঠিকভাবে করা হয়। বেশিরভাগ সময়ই রকেটের গতির দিক হয় পূর্ব দিকে। কারণ পৃথিবীর আহ্নিক গতিও পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে। এতে রকেট কিছুটা বেশী গতিপ্রাপ্ত হয় এবং জ্বালানী সাশ্রয় হয়। রকেট কতটুকু অতিরিক্ত গতি পাবে তার নির্ভর করে উৎক্ষেপণের স্থানে পৃথিবীর গতি কেমন তার উপর। নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর গতি সবচেয়ে বেশী থাকে। কিন্তু পৃথিবীর গতির কারণে একটি রকেট কি পরিমাণ অতিরিক্ত শক্তি পেতে পারে? এটা জানতে হলে পৃথিবীর পরিধি বের করতে হবে যা প্রায় ২৪,৯০০ মাইল বা ৪০,০৬৫ কিলোমিটার। ২৪ ঘন্টায় এই দুরত্ব অতিক্রম করতে একটি বস্তুকে ঘন্টায় ১,০৩৮ মাইল গতিবেগ পেতে হবে। তার মানে নিরক্ষরেখায় অবস্থিত প্রতিটি বিন্দুর গতিবেগ ঘন্টায় ১,০৩৮ মাইল। কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপিত কোনও রকেট পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির জন্য নিরক্ষরেখার মত সুবিধা পাবে না। কারণ জায়গাটি নিরক্ষরেখা থেকে ২৮ ডিগ্রী ৩৬ মিনিট ২৯.৭০১৪ সেকেন্ড উত্তরে অবস্থিত, যেখানে পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি প্রায় ঘন্টায় ৮৯৪ মাইল। এই দুটি স্থানের গতিবেগের পার্থক্য হল ঘন্টায় প্রায় ১৪৪ মাইল। রকেট এত গতিতে চলে যে আপনার কাছে মনে হতে পারে এই প্রতি ঘন্টায় ১৪৪ মাইল গতি কোনও ব্যাপার না। এর উত্তরে বলা যায় রকেটকে প্রচুর ভার বহন করতে হয়। যেমন ১১ই ফেব্রুয়ারী ২০০০ সালে উৎক্ষেপিত স্পেস শাটল এন্ডেভর এর ধারণক্ষমতা ছিল ২,০৫০,৪৪৭ কিলোগ্রাম। এই ভরের কোনও বস্তুকে যদি ঘন্টায় ১৪৪ মাইল অতিরিক্ত গতিবেগ অর্জন করতে হয়, তবে কি পরিমাণ অতিরিক্ত জ্বালানী বহন করতে হবে একবার চিন্তা করে দেখেছেন? এ কারনেই নিরক্ষরেখার কত কাছে থেকে রকেট উৎক্ষেপিত হচ্ছে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
    রকেট যখন একবার মাটি থেকে ১২০ মাইল উঁচুতে পৌঁছে যায়, তখন বাতাসের পুরুত্ব অনেক কমে যায়। এ সময় রকেটের নেভিগেশান সিস্টেম কিছু ছোট রকেট ছোঁড়ে, যাতে মূল মহাকাশযান মাটির সাথে আনুভূমিকভাবে অবস্থান নেয়। এরপর স্যাটেলাইট কক্ষপথে ছাড়া হয়। সব শেষে কিছু ছোট রকেট ছোড়া হয় যাতে স্যাটেলাইট মূল রকেট থেকে আলাদা হয়ে যেতে পারে।

    No comments

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad