Header Ads

  • Breaking News

    ইউ এফ ও। প্রথম পর্ব।

    ডিসেম্বর ৯, ১৯৬৫। শত শত মানুষ কেক্সবারগ, পেনসিলভানিয়া এর বনের মাঝে একটি অদ্ভুত বস্তুকে আকাশ থেকে পড়তে দেখে। ডিসেম্বর ২৭, ১৯৮০; খুব সকালে সাফ্লক, ইংল্যান্ডের রেন্ডলশ্যাম বনের মাঝে দুজন টহল পুলিশ দেখে একটি ধাতব বস্তু খুবই উজ্বল আলোসহ উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯০ সালে শত শত ত্রিকোণাকৃতির বস্তুকে বেলজিয়ামের আকাশে দেখা গিয়েছিল বলে রিপোর্ট আছে। জানুয়ারী ৫, ২০০০ সালে কিছু পুলিস অফিসার এবং একজন ব্যাবসায়ী ইলিনয়ের আকাশে একটি খুবই উজ্বল বস্তু উড়ে যেতে দেখেন।
    ইউএফও দেখার ঘটনার ম্যাপ 
    এরকম জমা করলে দেখা যাবে সারা পৃথিবীর হাজার হাজার মানুষ এরকম অদ্ভুত, অজানা উড়ন্ত বস্তু আকাশে দেখেছে নয়ত তাদের মাটিতে থাকা অবস্থায় দেখেছে বলে দাবী করেছে। তারা এগুলিকে একসাথে বলে “আন আইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্ট” বা ইউএফও। এসব দর্শকের বেশিরভাগেরই ভাষ্য ইউএফও আসলে অন্য গ্রহ থেকে আসা প্রাণীদের যানবাহন। তবে কি অন্য গ্রহ থেকে কিছু প্রাণী নিয়মিত পৃথিবী ভ্রমনে আসছে? নাকি এগুলি আসলে হাইটেক মিলিটারী যন্ত্র বা ওয়েদার বেলুন নাকি সহজেই ব্যাখ্যা করা যায় এরকম কোনও উড়তে সক্ষম বস্তু?
    ২০ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ইউএস এয়ার ফোরস যেকোনো “আনআইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্ট” বোঝাতে “ইউএফও” শব্দটি ব্যবহার শুরু করে। যারা ইউএফও নিয়ে খুবই আগ্রহী এবং এটা নিয়ে গবেষণা করে তাদের বলা হয় ইউএফওলজিস্ট। তারা ইউএফও শব্দটি ব্যবহার করে অন্য গ্রহের প্রাণী বা এলিয়েনদের আকাশযানকে বোঝাতে।
    ইউএফও দেখার ঘটনার সাথে এলিয়েন এবডাকশন বা এলিয়েনদের মাধ্যমে অপহরনের ঘটনার প্রচুর বর্ণনা পাওয়া যায়। এই অপহরণের সময় অপহৃতদের এলিয়েনদের আকাশযানে নিয়ে গিয়ে নানা ধরণের পরীক্ষানিরীক্ষা চালানো হয় বলে ভুক্তভোগীরা দাবী করে। এমনকি এলিয়েন মানুষের সংকরে সৃষ্ট প্রাণী আছে বলে ইউএফওলজিস্টরা দাবী করে। 
    ইউএফও দেখার ঘটনার সাথে অনেক সময় “ক্রপ সার্কেল” তৈরির ব্যাপারটা জড়িত থাকে বলে ইউএফওলজিস্ট দের দাবী। ক্রপ সার্কেল হল অদ্ভুত এবং ব্যাখ্যাতীত ঘটনা যেখানে শস্য ক্ষেতের মাঝে শস্যকে চেপে বিভিন্ন আকৃতি আঁকা হয়। বেশিরভাগ সময়েই দর্শকেরা দাবী করে যে এটি এক রাতের মাঝেই তৈরি হয়।
    ৭৮০ ফিট এর এই ক্রপ সার্কেলটি ২০০১ সালে উইল্টশায়ার, ইংল্যান্ড এর মিল্ক হিলে দেখা যায়। এই ক্রপ সার্কেল এ সব মিলিয়ে ৪০৯ টি বৃত্ত আছে
    অনেকসময় বিভিন্ন প্রাণীর মৃতদেহ পাওয়া যায় যাদের শরীর থেকে রক্ত ও অন্যান্য অঙ্গ বের করে নেয়া হয়েছে। এসবের জন্যে অনেকেই ইউএফও দায়ী করে। এসব ঘটনার সাথে এলিয়েনদের দায়ী করা হয় কারণ এগুলো কিভাবে করা হয়েছে এবং কারা করেছে, কোনও তদন্তকারীই এর সমাধান করতে পারেনি বা প্রকাশ করেনি। 
    ইউএফও দেখার সময় নানা ধরণের অদ্ভুত ঘটনা যেমন রেডিও টেলিভিশনের নেটওয়ার্কে বাঁধা, গাড়ির ইগ্নিশন না শুরু হওয়া ইত্যাদি ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা নানা সময়ে বর্ণনা করেছেন। অনেক ইউএফও দেখার ঘটনার পরপরই মাটিতে বিশাল এলাকা জুড়ে পোড়া বা চেপে যাওয়া গাছপালা দেখা গেছে। অনেক সময় ঘটনার পরপরই বিদ্যুৎ বা টেলিফোনের তার বা গাছের সাথে মাকড়শার জালের মত বস্তু ঝুলে থাকতে দেখা গেছে। এগুলো নাকি কোনও কিছুর স্পর্শ পেলেই মাটিতে পড়ে যেত এবং কি পদার্থ দিয়ে এসব জিনিস তৈরি তা বের করা সম্ভব হয়নি বলে ইউএফওলজিস্টদের দাবী।
    তাহলে এগুলি আসলে কি? এগুলি কি আসলেই অন্য গ্রহের প্রাণী দিয়ে পরিচালিত আকাশযান? নাকি মানুষের তৈরির এখনও সবার সামনে না নিয়ে আসা যন্ত্র? এই প্রশ্ন অনেক বিতর্কের অবতারণা করে। এটা প্রমাণ জন্য বাস্তববাদীদের সামনে ইউএফওলজিস্টরা খুব বেশী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দেখাতে সক্ষম হয়নি।
    একটি জরিপে জানা যায় আমেরিকার বেশীরভাগ মানুষই অন্য গ্রহে বুদ্ধিমান প্রাণী থাকাটা বিশ্বাস করে। ১৯৯৭ সালে সিএনএন এর করা একটি জরিপে দেখা যায় অন্তত ৬০% মানুষ মনে করেন অন্যগ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীরা ইতোমধ্যেই মানুষের সাথে যোগাযোগ করেছে। প্রায় ৫০% মানুষ মনে করেন এলিয়েনরা মানুষ ও বিভিন্ন প্রাণী অপহরণ করে নিয়ে যায়। প্রায় ৮০% মানুষ মনে করেন এলিয়েনদের ব্যাপারে সরকার তথ্য গোপন করে।
    যেসব মানুষ দাবী করে যে তারা ইউএফও দেখেছে তারা এই ব্যাপারে খুবই আত্মবিশ্বাসী যে সে বা যারা এটা দেখেছে, সঠিকটাই দেখেছে। তাদের মতে এই সব এলিয়েনরা পৃথিবীতে এসেছে মানুষ নিয়ে গবেষণা করতে হয় মানুষ ও এলিয়েনদের মাঝে একটি সংকর প্রজাতি বানাতে নয়ত শুধুমাত্রই যোগাযোগের জন্য।
    কিন্তু বাস্তববাদীদের মতে ইউএফও ব্যাপারটা সত্য না মিথ্যা এর কোনটার পক্ষেই উপযুক্ত প্রমাণ নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইউএফও দেখার ঘটনাকে ওয়েদার বেলুন বা উল্কাপাত বা গুজব বলে প্রচলিত সংবাদ মাধ্যম ও রাষ্ট্রব্যবস্থা সমর্থন দিয়েছে।    

    No comments

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad