ইউ এফ ও। দ্বিতীয় পর্ব। মার্কিন সরকারের তদন্ত।
১৯৪০ এর দশকে আমেরিকার সরকার ইউএফও এর বিষয়ে ব্যাপক তদন্ত করে। ইউএস এয়ার ফোরস
১৯৪৮ সালে ইউএরফও নিয়ে তদন্ত করার জন্য একটি প্রোগ্রাম শুরু করে যার নাম “প্রোজেক্ট
সাইন।“ পরে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় “প্রজেক্ট ব্লু বুক।“ ১৯৪৮ থেকে ১৯৬৯
সালের মাঝামাঝি সময় মার্কিন সরকার ১২,০০০ এরও বেশী ইউএফও দেখার ঘটনার তদন্ত শেষ
করে। এগুলোর মাঝে ১১,৯১৭ টি ঘটনা ওয়েদার বেলুন ও স্যাটেলাইট দেখা বা আবহাওয়া সম্পর্কিত
ঘটনা যেমন বিজলী চমক ও প্রতিফলন, মহাজগতিক ঘটনা বা গুজব বলে প্রমাণিত হয়। বাকী ৭০১
টি ঘটনা ব্যাখ্যা করা যায়নি বলে ঘোষণা দেয়া হয়। ১৯৬৯ সালে প্রোজেক্ট ব্লু বুকের
কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রোজেক্ট ব্লু বুকের উপসংহারে বলা হয়
- কোনও ইউএফও
দেখার ঘটনা ঘটেনি। এয়ার ফোরসের তদন্ত ও বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এগুলোর একটি ঘটনাও জাতীয়
নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ নয়।
- বর্তমানে
জানা বিজ্ঞান বা তথ্যের বাইরে কোনও উন্নত টেকনোলজি ধারণ করে পৃথিবীর ভেতর বা
বাইরের এমন কোনও প্রজাতি বা জাতিগোষ্ঠীর ব্যাপারে কেউ প্রমাণ দেখাতে পারেনি বা
এয়ার ফোরসের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
- ইউএফও যে
পৃথিবীর বাইরের প্রাণীদের দিয়ে চালনা করা হয় এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে বেসরকারি পর্যায়ে ইউএফও নিয়ে গবেষণা এখনও চলমান। সার্চ ফর এক্সট্রা
টেরিস্ট্রিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা সেটি ইন্সটিটিউট নিয়মিত আকাশ পর্যবেক্ষণ করে। তারা
সবসময় পৃথিবীর বাইরে থেকে এই ধরণের সিগন্যাল খুঁজে চলেছে। ১৯৯০ সালের দিকে তারা
এমন একটি সিগন্যাল বারবার পেতে থাকে যেটি পৃথিবী থেকে প্রায় এক মিলিয়ন মাইল দূর থেকে
আসছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই সেটি’র বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারে এটি আসছিল পৃথিবী থেকে এক
মিলিয়ন মাইল দূরে স্থাপন করা একটি সূর্য দেখার অবজারভেটরি থেকে যার নাম SOHO।
![]() |
১৯৪৭ সালে রসওয়েল থেকে উদ্ধার করা এলিয়েনটির শরীরে অপারেশন।“এলিয়েন অটোপ্সীঃ ফ্যাক্ট অর ফিকশন" ফক্স টিভি।
|
প্রোজেক্ট
ব্লু বুকের মাধ্যমে ইউএফও নেই বলে সরকারি ঘোষণা থাকলেও কিছু কিছু মানুষ মনে করতেন সরকারিভাবে
কিছু ব্যাপার গোপন করা হচ্ছে। ১৯৪৭ সালে রসওয়েল, নিউ মেক্সিকোর আকাশে একটি অদ্ভুত আলো
দেখা যায়। এর পরপরই একটা কিছু বিধ্বস্ত হবার বিকট আওয়াজ শোনা যায়। ম্যাক ব্রাজেল নামের
এক র্যাঞ্চ ফোরম্যান সারারাত ঝড়বৃষ্টি হওয়ার পর তার হারিয়ে যাওয়া ভেড়া খুজতে গিয়ে
বিধ্বস্ত হওয়া অদ্ভুত বস্তুটি খুঁজে পায়। সে
তার স্থানীয় শেরিফের সাথে যোগাযোগ করে, পরে শেরিফ সরকারকে ঘটনা জানায়। জুলাই ৮, ১৯৪৭
সালে ৫০৯ নম্বর বোম্ব গ্রুপের কর্নেল উইলিয়াম ব্ল্যাঙ্কারড মিলিটারী একটি বিধ্বস্ত
হওয়া “ডিস্ক” বা চাকতি খুঁজে পেয়েছে বলে প্রেস রিলিজ দেন। এর কয়েক ঘন্টা পর টেক্সাসের
ফোরট ওয়ারথ আর্মি এয়ার ফিল্ডে থাকা আট নম্বর এয়ার ফোরসের কমান্ডার জেনারেল রজার রামেই
আগের প্রেস রিলিজটি প্রত্যাখ্যান করে আরেকটি প্রেস রিলিজ দেন। জেনারেল রামেই এর মতে
কর্নেল ব্ল্যাঙ্কারড ও তার দল একটি ওয়েদার বেলুন ও একটি রেডার ডিটেক্টর খুঁজে পেয়েছিলেন।
কোন প্রেস
রিলিজটা সত্য ছিল? ইউএফও যারা বিশ্বাস করে তাদের মতে প্রথম প্রেস রিলিজটা সত্য ছিল।
দ্বিতীয় প্রেস রিলিজটা দেয়া হয় সত্য লুকানোর জন্য। ইউএফওলজিস্টদের মতে এখনও সেই ঘটনার
আসল সত্য লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের ধারণা ওই দিন মিলিটারি একটি আসল এলিয়েন মহাকাশযান
ও একটি এলিয়েন খুঁজে পেয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা দেখেছেন যে মিলিটারীরা সেই বিধ্বস্ত
হবার জায়গা থেকে একটি শরীর খুঁজে পেয়েছে। কিছু কিছু মানুষ দাবী করে যে তারা একটি এলিয়েন
অটোপ্সীর সময় উপস্থিত ছিলেন। রসওয়েল তত্বে বিশ্বাসী লোকজন মনে করেন নেভাডার এরিয়া ৫১
এ একটি এলিয়েন স্পেসক্র্যাফট বিধ্বস্ত হবার পর থেকে মার্কিন সরকার গোপনে এলিয়েনদের
সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
এই ব্যাপারে
আরেকটা তত্ত্ব আছে যে জারাই এলিয়েন নিয়ে আসল সত্যটা জেনে যায় সরকার তাদের চুপ করিয়ে
দেবার পদক্ষেপ নেয়। যারা ইউএফও দেখেছেন এমন অনেক মানুষ বলেছে তাদের চুপ থাকার জন্য
ভয় দেখাতে কিছু কালো পোশাকের মানুষ এসেছিল। এসব কালো পোশাকের মানুষদের বলা হয় “মেন
ইন ব্ল্যাক।“ এদের কথা প্রথম বলেন গ্যারি বারকার তার ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হওয়া বই “দে
নো ঠু মাচ এবাউট ফ্লাইং সসার” এ। তিনি এই বইয়ে বলেন হয় এলিয়েনরা সরকারের সহযোগিতায়
নিজেদের লুকাতে চাচ্ছে নয়ত সরকারই চায়না যে নাগরিকেরা এলিয়েনদের সম্পর্কে জানুক। তবে
বেশিরভাগ ভিত্তিতে জানা যায় যে বারকারের এই বইটি আসলে সায়েন্স ফিকশন ছিল।
তবে মার্কিন সরকার সবসময়ই
এলিয়েনদের ব্যাপারে তথ্য গোপন করা হচ্ছে এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। একজন ব্রিটিশ
ব্যবসায়ী রে স্যান্টিলি দাবী করেন যে একটি মিউজিক ভিডিও নিয়ে রিসার্চ করার সময় তিনি
একটি ভিডিও পান যেখানে ১৯৪৭ সালে রসওয়েল থেকে উদ্ধার করা এলিয়েনটির শরীরে শল্য অপারেশন
চালানো হচ্ছে। “এলিয়েন অটোপ্সীঃ ফ্যাক্ট ওর ফিকশন” শিরোনামে ফক্স টিভি ১৯৯৫ সালে একটি
ফুটেজ প্রচার করে। পরে তারা স্বীকার করে যে ব্যাপারটি সাজানো ছিল এবং ১৯৯৪ সালে কিছু
অভিনেতা অভিনেত্রীদের নিয়ে এই ভিডিও এর শুটিং করা হয়।

No comments