Header Ads

  • Breaking News

    কেন কালো বিড়ালকে অশুভ ধরা হয়?

    প্রায় সবাই এই কুসংস্কার সম্পর্কে জানেন যে যদি কারও সামনে দিয়ে কালো বিড়াল যায় তবে তার ভাগ্যে খারাপ কিছু ঘটছে। কিন্তু এটা জানেন যে কেন কালো বিড়ালকে দুর্ভাগ্যের কারণ হিসেবে ধরা হয়? এটা শুধুমাত্রই তার গায়ের রঙের জন্য, নাকি আরও বাজে কিছু আছে এর পেছনে?

    প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় সব ধরণের বিড়ালকেই খুব আদরযত্ন করা হত। তারা বিড়ালদের ব্যাপারের এতটাই সিরিয়াস ছিল যে বিড়াল মারার অপরাধের শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড। কিছু শতাব্দী পরে প্যাগানদের সমস্ত ঐতিহ্য খ্রিষ্টধর্মের বিস্তারের কারণে চাপা পড়ে যায়। তখন প্যাগানদের কিছু ঐতিহ্যকে সাধারণ মানুষের কাছে খারাপ ব্যাপার হিসেবে উপস্থাপন করা শুরু হয়।
    ১২৩৩ সালে পোপ নবম গ্রেগরী বলেন শয়তান কালো বিড়ালের মাধ্যমে পুনর্জন্ম লাভ করে। তাই কালো বিড়াল মানেই শয়তান। এই ঘোষণার পর পরই খ্রিষ্টধর্মের অনুসারীরা ধর্মের প্রতি তাদের আনুগত্য দেখানো জন্য আশেপাশের যত কালো বিড়াল ছিল, ধরে এনে পোড়ানো শুরু করে। ১৪শ শতকের দিকে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে ওঠে যে ইউরোপের কোনও কোনও অংশে কালো বিড়াল প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।
    যেহেতু কালো বিড়ালকে শয়তানের সাথে জোড়া লাগানো হয়েছে, তাই পরবর্তী কয়েক শতাব্দীতে ডাইনী ও কালো বিড়ালের মাঝে যোগসূত্র বের করা হয়। এই কুসংস্কার প্রচলিত হয় যে কালো বিড়াল দেখা গেছে, মানে খুব কাছাকাছি কোনও ডাইনীর উপস্থিতি আছে। কোথাও কোথাও এই গুজব রটে যায় যে যদি কোনও কালো বিড়াল কোনও ডাইনীর সাথে সাত বছর বা তার বেশী সময় ধরে থাকে, তবে সেই কালো বিড়াল তার মনিব ডাইনীর রূপ ধরতে পারে। অবস্থা এমন হয় যে ১৬শ এবং ১৭শ শতাব্দীতে ইউরোপে কোনও বাড়িতে পোষা কালো বিড়াল থাকার অর্থ ছিল ওই পরিবার কালোজাদুর সাথে জড়িত।

    দুঃখজনক হলেও সত্য যে মধ্যযুগের এই কুসংস্কার এই আধুনিক যুগেও চলমান। তবে এটা প্রমাণ হয়েছে যে কালো বিড়ালের প্রতি তৈরি হওয়া এই কুসংস্কার কালো রঙের বিড়ালের উপর প্রভাব ফেলে। ২০১৩ সালে কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা প্রকাশ করা হয় যে অন্য রঙের বিড়ালদের পোষ মানাতে যে সময় লাগে, কালো রঙের বিড়ালদের ক্ষেত্রে তার চেয়ে চার থেকে ছয় দিন বেশী সময় লাগে। আরও একটি বাজে সংবাদ হল প্রায় ৭০% ভাগেরও বেশী কালো বিড়াল কোনও মনিব পায়না।

    No comments

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad