ট্রিপ্ট্যান্স সম্পর্কে আপনার যা জানা দরকার।
ট্রিপ্ট্যান্স হল সেরোটনিন (5HT-1) রিসেপ্টর এন্টাগনিস্ট। মাইগ্রেন ও ক্লাস্টার জাতীয় মাথাব্যাথা নিরাময়ের
জন্য এটি সবচেয়ে নতুন ওষুধের মাঝে অন্যতম। মাইগ্রেনের ব্যাথার চিকিৎসার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই
এগুলিই প্রথম ওষুধ হিসেবে দেয়া হয়।
ট্রিপ্ট্যান্স
মাইগ্রেনের ব্যাথা শুরু হবার প্রায় সাথে সাথে সারিয়ে দিতে পারে। এগুলির সেবন প্রক্রিয়া
মুলত তিন প্রকার। মুখে নেয়া, নাকে স্প্রে করা এবং ইঞ্জেকশন হিসবে নেয়া। এই ওষুধ মুখের
মাধ্যমে সেবন করাই সবচেয়ে সহজ। নাকে স্প্রে এবং ইঞ্জেকশন মুখে সেবন করার তুলনায় দ্রুত
কাজ করে। তাছাড়া রোগীর যদি বমি করার সম্ভবনা থাকে তবে মুখে সেবন না করাই নিরাপদ।
ট্রিপ্ট্যান্স ব্রেইনে থাকা রক্তের নালীকে সরু করে দেয়, ফলে রক্ত প্রবাহের
পরিবর্তন ঘটে। এতে “সাবস্ট্যান্স পি” নামের একটি ব্রেইন কেমিক্যাল তৈরি হতে পারে
না। মাইগ্রেনের জন্য যে ব্যাথা হয় তার অন্যতম প্রধান কারণ হল এই “সাবস্ট্যান্স পি”।
ফলে রক্তনালী সরু হওয়া মাত্রই যখন “সাবস্ট্যান্স পি” তৈরি হতে পারে না, তখন মাথাব্যাথার
অনুভূতি আর থাকে না।
প্রতিটি ওষুধেরই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকে। ট্রিপ্ট্যান্সেরও আছে। তবে এইসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
খুব একটা ক্ষতিকর নয়। তবে ট্রিপ্ট্যান্স সেবনের পর যদি নিচের উপসর্গ গুলি দেখা দেয়
তবে ডাক্তারের সাহায্য নেয়া আবশ্যক।
- ব্যাথা।
- শুষ্ক মুখ।
- ক্লান্তি।
- ঘুম ঘুম ভাব।
- বমি বমি ভাব।
- চুলকানি।
- নাকের স্প্রে নিলে অস্বস্তিকর স্বাদ অনুভূত হওয়া।
- দুর্বল অনুভব করা।
- বুকে ব্যাথা
- শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।
যদি আপনি ট্রিপ্ট্যান্স সেবনের সময় অন্য কোনও ওষুধ সেবন
করতে থাকেন তবে সেই ওষুধ বা রোগের সাথে ট্রিপ্ট্যান্সসের কোন প্রতিক্রিয়া আছে কিনা
তা আপনার ফার্মাসিস্ট বা ডাক্তারের কাছে থেকে জেনে নেয়া উচিত। যতদিন ট্রিপ্ট্যান্স
সেবন করছেন ততদিন আপনার ডাক্তারের সাথে আপনার যোগাযোগ থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
যদি আপনি নিচের ধরণের ওষুধ সেবন করতে থাকেন
- এন্টিডিপ্রেসেন্ট যেমন MAO
inhibitors।
- বেটা ব্লকারস।
- যেসব ওষুধে এরগট আছে।
- আলসারের চিকিৎসার জন্য ওষুধ খাচ্ছেন যেমন সিমেটিডিন।
তবে ট্রিপ্টান্স
সেবন করলে মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া যদি আপনার হার্টের রোগ এবং উচ্চ রক্তচাপ
থাকে তবে ট্রিপ্ট্যান্স সেবন থেকে বিরত থাকা উচিত।

No comments