Header Ads

  • Breaking News

    শব্দ তরঙ্গ কি মানুষ মেরে ফেলতে পারে?

    টিনটিন কমিক সিরিজের কথা মনে আছে? তার একটা পর্ব ছিল “দ্য ক্যালকুলাস এফেয়ার।“। সেই পর্বে দেখানো হয় একজন খুবই ব্রিলিয়ান্ট প্রফেসরকে, উনি একটা সনিক ডিভাইস আবিষ্কার করেন। ডিভাইসটা এতটাই বিধ্বংসী ছিল যে সরকার তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। মিলিটারির যে মানুষটি এই অপহরণের পরিকল্পনা করেন, তার উদ্দেশ্য ছিল প্রচন্ড শক্তিশালী শব্দতরঙ্গ তৈরি করে সম্পূর্ণ শহর ধ্বংস করে দেবে। সেই প্রফেসরের খুবই ভাল বন্ধু ছিল টিনটিন। টিনটিন ও ক্যাপ্টেন হ্যাডক প্রফেসরকে উদ্ধার করে এবং শহর ধ্বংসের এই ঘৃণ্য পরিকল্পনা বানচাল করে দেয়।
    কিন্তু এই গল্পের পেছনে কি কোনও বিজ্ঞান আছে? শব্দ কি সত্যিই কোন প্রাণীকে মেরে ফেলতে পারে? যদি পারে, তবে কিভাবে পারে? শব্দ কি? শব্দ আসলে চাপের ঢেউ যার চলাচলের জন্য কোন মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, যেমন বাতাস। এই ঢেউ আবার তরল ও কঠিন মাধ্যমেও পরিবাহিত হতে পারে। তার মানে হল শব্দ আমাদের শরীরের মাঝে দিয়েও পরিবাহিত হতে পারে। তাত্বিকভাবে বলতে গেলে, শব্দের সাহায্যে যদি যথেষ্ট চাপের সৃষ্টি করা যায়, তবে আমাদের শরীরের কিছু ক্ষতি সাধন করা যেতেই পারে। 
    শব্দের তরঙ্গের এই পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য দুই ধরণের একক ব্যবহার করা হয়, একটি হল “ডেসিবেল (dB), এবং আরেকটি হল হার্টজ (Hz)। ডেসিবেল হল শব্দের তীব্রতা মাপার জন্য, আর হার্টজ হল শব্দ কত ফ্রিকোয়েন্সিতে চলছে তা পরিমাপের একক। আমরা কথাবার্তা বলার সময় শব্দের যে তীব্রতা তাকে তা সাধারণতঃ ৫০-৬৫ ডেসিবেলের ভেতর থাকে। একটি ঘাস কাটার যন্ত্র ৮৫-৯০ ডেসিবেল তীব্রতার শব্দ তৈরি করতে পারে। আবার রাস্তা বা দেয়াল ভাঙ্গার জন্য যে জ্যাকহ্যামার ব্যবহার করা হয় তার শব্দের তীব্রতা ১১০ ডেসিবেলে পৌছাতে পারে। একটি জেট ইঞ্জিন প্রায় ১৪০ ডেসিবেল তীব্রতার শব্দ তৈরি করে।
    আমরা মানুষেরা ২০ হার্টজ থেকে ২০,০০০ হার্টজ ফ্রিকোয়েন্সীর শব্দ শুনতে পারি। এই সীমার বাইরের ফ্রিকোয়েন্সীর শব্দও কিন্তু আমাদের শ্রবণে প্রভাব ফেলতে পারে। ধরুন আপনার ঠিক সামনে একটি সাবউফারের ভলিউম ১০০ ডেসিবেল করে দেয়া হল, কিন্তু সেই শব্দের ফ্রিকোয়েন্সি ১৯ বা তার কম হার্টজ, তবে সেই শব্দ আপনার কাজে কিছুতেই আসবেনা। কিন্তু শব্দের তীব্রতার কারণে যে কম্পন তৈরি হচ্ছে, তা কিন্তু অনুভব করতে পারবেন। আপনার চোখ বড় বড় হয়ে যাবে। যদি কাউকে ০.৫-৮ হার্টজের ১৭৭ ডেসিবেলের সামনে রাখা হয়, তবে এই শব্দ না শোনা গেলেও তা ফুসফুসের উপর প্রভাব ফেলবে। আপনার স্বাস-প্রস্বাসের গতি অনিয়মিত হয়ে যাবে এবং আপনার হাড় নাড়িয়ে দেবে। অল্প কিছু সময় এই অবস্থার মাঝে কেউ থাকলে তার হাড়ের সংযোগস্থল গুলি নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে। যদি এই অবস্থায় কেউ দীর্ঘ সময় ধরে থাকে তবে একসময় বমি বমি ভাবের সাথে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

    ইউরোপীয়ান স্পেস এজেন্সীর (এসা) একটি ফ্যাসিলিটি আছে যার নাম লারজ ইউরোপীয়ান একোয়িস্টিক ফ্যাসিলিটি। এখানে স্যাটেলেইটগুলি কি তীব্রতার শব্দ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবে, তার পরীক্ষা চালানো হয়। এসা’র মতে এই পরীক্ষার সময় যে ধরণের শব্দ ব্যবহার করা হয় তাতে কোন মানুষেরই বেঁচে থাকা সম্ভব না। এই পরীক্ষার সময় সাব্জেক্টকে একটি বদ্ধ ঘরে রাখা হয়। ঘরটির দেয়ালের বাইরে দিকে মারাত্মক তীব্রতার শব্দ দিয়ে নিয়মিত আঘাত করতে থাকা হয়। হিসাব করে দেখা গেছে মানুষের শরীরকে বিস্ফোরিত করতে ২৪০ ডেসিবেল তীব্রতার শব্দের প্রয়োজন। এটা কিন্তু প্রচন্ড শব্দ। এসা যে পরীক্ষা করে, সেখানে সবচেয়ে বেশী তীব্রতার শব্দ হল ১৫৪ ডেসিবেলের।
    মানুষ মেরে ফেলবেনা এরকম তীব্রতার শব্দ কিন্তু আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ আসতে পারে। মনে করুন একদল পুলিশ একদল ডাকাতকে ধাওয়া করেছে। যদি পুলিশ একটি ২৪,০০,০০০ টাকার লং রেঞ্জ একুয়েস্টিক ডিভাইস ব্যবহার করে ডাকাতদের উদ্দেশ্যে ১৫০ ডেসিবেল তীব্রতার শব্দের বীম ছোঁড়ে, তবে ডাকাতরা আর পালাতে পারবে না, তাদের শরীরে হাড়ের যত সংযোগস্থল আছে, সব ওই শব্দের তীব্রতার কারণে দুর্বল হয়ে পড়বে। শুধু এই বীম ছোঁড়ার সময় পুলিশকে ডাকাতদের অন্ততঃ ৩০০ মিটার বা ১০০০ ফুটের ভেতর থাকতে হবে।

    No comments

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad