Header Ads

  • Breaking News

    ভুঁড়ির মেদ ও ব্রেইনের আকারের মাঝে যোগসূত্র আছে।

    আগে জানা ছিল যে ভুঁড়ির মেদ হৃদপিণ্ডের জন্য খারাপ, কিন্তু এখন নতুন এক গবেষণায় অনেক প্রমাণ পাওয়া গেছে যেগুলো থেকে বোঝা যায় যে ভুঁড়ির মেদ ব্রেইনের জন্যও খারাপ। ইংল্যান্ডের করা এক গবেষণায় জানা গেছে, যে যেসব মানুষের ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশী এবং যাদের ওয়েস্ট টু হিপ রেশিও (ভুঁড়ির মেদ মাপার ব্যবস্থা) বেশ বড়, তাদের ব্রেইনের আয়তন স্বাভাবিক মানুষের তুলনায় কম। নির্দিষ্ট করে বললে ভুঁড়ির মেদের সাথে ব্রেইনের গ্রে ম্যাটারের সম্পর্ক আছে এটা আগে থেকেই জানা ছিল। স্নায়ু কোষ গুলি গ্রে ম্যাটারেই থাকে।

    এই গবেষণার প্রধান গবেষক ইংল্যান্ডের লিসিস্টারশায়ারের লাফবরো ইউনিভার্সিটির স্কুল অব স্পোর্টস, এক্সারসাইজ এন্ড হেলথ সায়েন্সেস এর  প্রফেসর মার্ক হ্যামার বলেন “এই গবেষণায় পাওয়া গেছে যেসব মানুষের ওজন বেশী তাদের বেশীরভাগেরই মগজের পরিমাণ কম।“ ব্রেইনের আয়তন বা মগজের পরিমাণ কমে যাওয়ার সাথে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায় এবং চিন্তাশক্তির সক্ষমতা কমে যায়। তবে এই গবেষণা প্রমাণ করে না যে ভুঁড়ি বড় থাকলেই মগজের পরিমাণ কমে যায়। এমনও হতে পারে যে যদি কারও ব্রেইনে গ্রে ম্যাটারের পরিমাণ কম থাকে তবে তার ওজন বেড়ে যাবার ঝুঁকি বেড়ে যাবে। এটা প্রমাণের জন্য ভবিষ্যতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
    ভুঁড়ির মেদের অন্য নাম হল ভিসেরাল ফ্যাট। এই ধরণে ফ্যাট এবডোমিনাল ক্যাভিটির গভীরে মজুদ থাকে। চামড়া নীচে যে ফ্যাট থাকে তার চেয়ে এই ফ্যাটের জন্য শরীর বেশী ঝুঁকিতে থাকে। আগেই গবেষণায় জানা গেছে ভিসেরাল ফ্যাট বেশী থাকলে হার্ট এটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশী থাকে। সাথে ডায়াবেটিস টাইপ টু, উচ্চ রক্তচাপ এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ে।
    এই নতুন গবেষণায় গবেষকেরা ইউনাইটেড কিংডমে বসবাস করে এমন ৯,৬০০ মানুষের উপর গবেষণা পরিচালনা করেন। এদের গড় বয়স ছিল ৫৫ বছর। তাদের বডি মাস ইনডেক্স ও ওয়েস্ট টু হিপ রেশিও মাপা হয়। আর ব্রেইনের আয়তন জানার জন্য এমআরআই করা হয়। এতে দেখা যায় যাদের বডি মাস ইনডেক্স এবং ওয়েস্ট টূ হিপ রেশিও দুটিই বেশী, তাদের ব্রেইনের আয়তন সবচেয়ে কম। নির্দিষ্ট করে বললে, এদের ব্রেইনের আয়তন ছিল ৭৮৬ কিউবিক সেন্টিমিটার। যাদের বডি মাস ইনডেক্স বেশী কিন্তু ওয়েস্ট টু হিপ রেশিও স্বাভাবিক তাদের ব্রেইনের আয়তন পাওয়া যায় ৭৯৩ কিউবিক সেন্টিমিটার। যাদের এই দুই ই স্বাস্থ্যকর সীমায় আছে তাদের ব্রেইনের আয়তন পাওয়া গেছে ৭৯৮ কিউবিক সেন্টিমিটার।
    যদিও এই গবেষণা ভিসেরাল ফ্যাট এবং ব্রেইনের আয়তন কমার সাথে সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণ করে না, তবে একটা হাইপোথিসিস আসে যে ভিসেরাল ফ্যাট যে সব ইনফ্ল্যামেটরী সাবস্টেন্স তৈরি করে, সেগুলি ব্রেইনের আকার কমার জন্য দায়ী হতে পারে। নিউ ইয়র্কের লেনক্স হিল হসপিটালের একজন নিউরোলজিস্ট ডাক্তার গায়েত্রী দেবী বলেন “অতিরিক্ত ওজন ও ভিসেরাল ফ্যাটের সাথে ব্রেইনের গ্রে ম্যাটার কমার সম্পর্ক আগে থেকেই প্রমাণিত। এ থেকে বোঝা যায় যে একটু সুস্থ ব্রেইন পেতে গেলে একটি সুস্থ শরীর ধরে রাখতে হয়।“
    এই গবেষণায় যে সীমাবদ্ধতাটি ছিল সেটা হল যারা এই গবেষণায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের বেশীরভাগই ছিল ভাল স্বাস্থ্যের অধিকারী। তাই এই গবেষণার সিদ্ধান্ত সকল মানুষের উপর প্রয়োগ করা যাবে না।

    No comments

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad