ইউএফও। শেষ পর্ব। এলিয়েন দেখা।
এলিয়েনরা
কি আসলেই মানুষ অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে তাদের উপর গবেষণা চালায়? অনেকেই বলেন যে এটা সত্যি।
প্রথম যে এলিয়েন দিয়ে অপহরণের অভিযোগ আসে, সেটা করেন নিউ হ্যাম্পশায়ারের বার্নি ও বেটি
হিল দম্পতি। সেপ্টেম্বর ১৯, ১৯৬১ সালে এই দম্পতি নিউ হ্যাম্পশায়ারের একটি গ্রাম্য এলাকা
দিয়ে যাবার সময় আকাশে একটি চলমান আলো লক্ষ্য করেন। যখন জিনিসটি কাছে চলে আসে, দেখেন
সেটায় বড় বড় বিভিন্ন রঙের আলো জ্বলছে এবং এটি একটি আকাশযানের মত। বার্নি যখন তার বিনকিউলার
দিয়ে জিনিসটার দিকে তাকান তিনি দেখতে পান জিনিসটার ভেতরে এলিয়েনরা চলাফেরা করছে। তারা
ভয় পেয়ে বাড়ি ফেরত আসেন। এই ঘটনার কিছুদিন পর বেটি দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করেন যে তিনি
ওই জিনিসটির ভেতরে। পরে তাদের সম্মোহিত করা হলে দম্পতি মনে করতে পারেন যে তাদের ওই
আকাশযানের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তাদের উপর পরীক্ষানিরীক্ষা চালানো হয়েছিল।
আসলেই কি
হিলস দম্পতি এবং অন্যান্য যারা তাদের এলিয়েনরা অপহরণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করে এসেছেন,
এগুলি কি সত্যি? বাস্তব্বাদীরা বলেন এলিয়েন যাদের বড় বড় চোখ আছে বলে হিলস দম্পতি বর্ণনা
করেছেন তাদের সাথে, সম্মোহিত করার ১২ দিন আগে টিভিতে প্রচারিত “আউটার লিমিট” নামে
একটি অনুষ্ঠানে দেখানো প্রাণীদের সাথে সম্পূর্ণ মিল পাওয়া যায়। এরপর
থেকে দেখা যায় যে যত এলিয়েন দিয়ে অপহরণের অভিযোগ সামনে আসে, তাদের সবার দেয়া বর্ণনা
প্রায় একই রকম। অনেকেই বলেন যে যখন ওইসব ইউএফও এর আলো তাদের শরীরে পরত, তারা প্যারালাইজড
হয়ে যেতেন। এরপর তারা অনুভব করতেন যে ইউএফও থেকে আসা একটি আলোর বীম তাদের তুলে ইউএফও
এর ভেতরে নিয়ে যাচ্ছে। তারা এও বর্ণনা করেন যে তাদের একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় যেটি
অনেকটা একটি অপারেশন থিয়েটারের মত। আবার অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে নতুন এলিয়েন বংশধর
তৈরির জন্য অপহৃতদের শরীর থেকে শুক্রানু বা ডিম্বানু সংগ্রহ করা হত। ঘটনার দীর্ঘদিন
যাবার পর তারা নাকি তাদের সেইসব বংশধরদের সাথে দেখাও করতে পেরেছেন।
এই সব বর্ণনাগুলি সম্পূর্ণ কল্পনা মনে হতে পারে। অনেক গবেষকেরা বলেছেন এলিয়েন অপহৃতদের
কাছে থেকে পাওয়া এসব ঘটনার স্মৃতির বর্ণনা যুদ্ধে অংশ গ্রহনের পর ফেরত আসা যেসব যোদ্ধারা
পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারে ভুগছেন তাদের প্রকাশ করা লক্ষণের সাথে মিলে যায়।
তাদের যদি এমন কোনও অডিও টেপ শোনানো হয় যার শব্দগুলি তাদের অভিজ্ঞতার সাথে মিলে যায়
তবে তারা বিভিন্ন রকমের শারীরিক উপসর্গ প্রকাশ করেন। তাদের হাতের তালু ঘামতে থাকে,
পেশী শক্ত হয়ে যায় এবং হৃদস্পন্দনের গতি বেড়ে যায়। এগুলি নিয়ে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির
প্রফেসর রিচারড ম্যাকনালী ও তার সহকর্মীরা ২০০৪ সালের জুলাই মাসে সাইকোলজিক্যাল সায়েন্স জার্নালে একটি গবেষণা প্রকাশ করেন।
এছাড়াও বেশীরভাগ অপহরণের ঘটনার সময় দেখা গেছে যে সেখানে মানুষ দাবী করেছে যে
তারা ইউএফও দেখেছে। অনেক মানুষ হারিয়ে গেছে বলে রিপোর্ট করা হয়েছে, তাদের মাঝে কেউ
কেউ ফেরত আসলে তাদের শরীরে অদ্ভুত সব কাটা দাগ আর ক্ষতস্থান পাওয়া যেত।
গত ৫০-৭০ বছরে ইউএফও দেখার ঘটনার অসংখ্য বর্ণনা পাওয়া যায় সেই সাথে ইউএফও এর অনেক
ভিডিও রেকর্ডিং ও আছে। তবে প্রাচীনকাল থেকেই ইউএফও দেখতে পাওয়ার ঘটনা অনেক জায়গাতে
লিপিবদ্ধ আছে। লেখক এরিক ভন ড্যানিকেন এগুলি নিয়ে দুই ডজন বই লিখেছেন। তাদের মাঝে
একটি হল “চ্যারিয়টস অব গডস?- আনসল্ভড মিস্ট্রিজ অব দ্য পাস্ট।“ এখানে তিনি দাবী
করেছেন যে এলিয়েন রা হাজার হাজার বছর ধরে পৃথিবীতে আসা যাওয়া করছে। বাইবেলে অসংখ্য
এলিয়েন দেখার ঘটনার কথা বর্ণনা করা আছে। তিনি আরও দাবী করেন যে এলিয়েন রা মানুষকে
পিরামিড বানাতে সাহায্য করেছে, শিল্পচর্চা ও সামাজিক অবস্থান স্থাপন করা শিখিয়েছে,
একই সাথে পঞ্চাশের দশকের পর যে মানুষ জ্ঞান বিজ্ঞানে এত উন্নতি করেছে, তার সব কিছুর
পেছনেই এলিয়েনদের সহযোগিতা ও প্রযুক্তি আছে।
প্রাচীন সংস্কৃত গ্রন্থ গুলিতে এক ধরণের যন্ত্রের কথা উল্লেখ আছে যার নাম ছিল “ভিমানা।“
দেবতারা তাদের যুদ্ধের সময় এইসব জিনিস ব্যবহার করতেন বলে ইউএফওলজিস্টরা মনে করেন। সংস্কৃত ভাষায় “ভিমানা”
তৈরির প্রক্রিয়াও বর্ণনা করা ছিল। অনুবাদের পর সেই পদ্ধতি নিচের মত দাঁড়ায়ঃ
“জিনিসটি যেসব পাখি খুব ভাল উড়তে পারে, তাদের শরীরের মত হালকা। এতে অবশ্যই
পারদের ইঞ্জিন থাকতে হবে যার নীচে লোহার তৈরি কিছুর সাহায্যে তাপের ব্যবস্থা থাকতে
হবে। এতে পারদের শক্তি জিনিসটিকে ওড়ার সক্ষমতা দেবে। এতে যদি কেউ বসে থাকে তবে সে অনেক
দুরত্ব অতিক্রম করতে পারবে। একটি ভিমানা লম্বালম্বিভাবে যেমন উপরেও উঠতে পারে, একই
ভাবে এটা নীচেও নামতে পারে। আবার সামনে পেছনেও যেতে পারে।“
২৪ জুন, ১৯৪৭ সালেই হয়ত প্রথম আধুনিক সময়ে খুব কাছে থেকে ইউএফও দেখা গিয়েছিল।
একজন বেসরকারী পাইলট কেনেথ আর্নল্ড ওয়াশিংটনের মাউন্ট রেনিয়ার এর উপর বাঁকানো
চাঁদের আকারের উড়ন্ত বস্তু দেখেছিলেন। তার মতে সেটি ঘন্টায় কমপক্ষে ১০০০ মাইল বেগে
চলছিল, সেই সময়ে মানুষের তৈরি কোনও উড়োজাহাজ এত জোরে চলতে পারতোনা। একজন রিপোর্টার
এই ঘটনার জিনিসটিকে “ফ্লাইং সসার” বলে বর্ণনা দেন। সেই থেকে ইউএফও ফ্লাইং সসার বলে
পরিচিতি পায়।
এর পর থেকে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, চায়না, মেক্সিকো, রাশিয়া, স্পেন, ইটালী,
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ইউএফও দেখা গেছে বলে দাবী করা
হয়।

No comments