রকেট ইঞ্জিন যেভাবে কাজ করে। পর্ব ৪।
সলিড ফিউল রকেটঃ ফিউল মিক্সার।
মানুষের তৈরি প্রথম রকেট ইঞ্জিন হল সলিড
ফিউল রকেট ইঞ্জিন। কয়েকশত বছর আগে চীনে এগুলি প্রথম আবিষ্কার হয়, তারপর থেকে এই ধরণের
ইঞ্জিন ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়।
এই ধরণের রকেট ইঞ্জিনের পেছনের তত্বটা খুবই
সোজা। ব্যবহারকারী এমন কিছুকে জ্বালানী হিসেবে চান যা অনেক দ্রুত পুড়বে, কিন্তু বিস্ফোরিত
হবে না। অনেকেই হয়ত জানেন গানপাওডার বিস্ফোরিত হয়। গানপাওডারের ৭৫% হল নাইট্রেট,
১৫% কার্বন এবং ১০% হল সালফার বা গন্ধক। রকেট ইঞ্জিনে জেমন বিস্ফোরণ চাওয়া হয়না,
তেমন আবার চাওয়া হয় যেন জ্বালানী বেশী সময় ধরে পুড়ুক। যদি গানপাওডারে ব্যবহার করা জিনিসপত্রের
অনুপাত একটু পরিবর্তন করে দেয়া হয়, আপনি একটি সাধারণ রকেট ফিউল পেয়ে যাবেন। সেক্ষেত্রে
নাইট্রেট থাকবে ৭২%, কার্বন ২৪% আর বাকিটা সালফার। এই মিশ্রণ খুব দ্রুত পুড়বে,
কিন্তু যদি ভালভাবে কাজে লাগানো হয় তবে তা বিস্ফোরিত হবে না।
ছবিটা দেখুন। বামের ছবিটি হল ইগ্নিশনের আগের অবস্থা।
সলিড ফিউল কে ছবিতে সবুজ রঙে দেখানো হয়েছে। যখন জ্বালানী পোড়ানো শুরু হয় তখন
জ্বালানী দেয়ালের সাথে দিয়ে জ্বলতে থাকে। জ্বলতে থাকার সময় জ্বলে যাওয়া পদার্থ
বাইরের দিকে বেরোতে তাকে এবং এটা চলমান থাকে যতক্ষণ না সমস্ত জ্বালানী ফুরিয়ে যায়।
একটি ছোট রকেটের জ্বালানী এক সেকেন্ড বা তারও কম সময় ধরে জ্বলে। স্পেস শাটলে
মিলিয়ন পাউন্ডের বেশী জ্বালানী থাকে, আর সেটার জ্বলন প্রায় দুই মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী
থাকে।

No comments