Header Ads

  • Breaking News

    কান্নার রহস্য (!)।

    বিভিন্ন কারণে মানুষ কাঁদতে পারে। একটি চোখের পানির কণা কারও গাল বেয়ে পড়ছে, এটা দুঃখ প্রকাশ পাবার সবচেয়ে উচ্চতম প্রকাশের মাঝে ধরা হয়। মানুষ আবার পেঁয়াজ কাটার সময়ও কাঁদে। বাচ্চারা তাদের কোনও ধরণের অসুবিধা প্রকাশের জন্য কাঁদে, যার সম্পূর্ণটাই মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা। কেউ কেউ আবার মনে করেন যে কিছু কিছু দুষ্ট বাচ্চা তাদের কান্না ব্যবহার করে বড়দের কাছে থেকে সুবিধা আদায় করে নেয়, যা গবেষকরা মিথ্যা বলে মনে করেন। তাদের মতে শিশুদের চিন্তা ভাবনায় সেই ধরণের উপযুক্ততা আসে না যা দিয়ে কাউকে প্রভাবিত করা সম্ভব। যদি কেউ প্রভাবিত হন তবে তা সেই মানুশটির সেই শিশুটির প্রতি ভালবাসার বাধ্যবাদকতা।
    তবে শিশুরা যখন বড় হয় তখন তারা তাদের চোখের পানিকে দুঃখ বা সুখ জাতীয় আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এই ধরণের চোখের পানি অন্যদের প্রতি তাদের আবেগীয় সংযুক্তি প্রকাশ করে। তবে সেসব প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্যাপারে অবশ্যই সাবধান থাকা উচিত যারা কান্নাকে ব্যবহার করে অন্যকে প্রভাবিত করতে চায়।

    চার্লস ডারউইন আবেগী চোখের পানিকে “কারণ ছাড়া” বলেছিলেন, কিন্তু তার পরে আমরা জানতে পারি যে কান্না আমাদের সামাজিক বাঁধনকে শক্ত করে এবং ভাল ব্যবহার জানান দেয়। ড. লরেন ব্যসিলোমা বলেন “কান্নার শারিরীক প্রভাবের চেয়ে সামাজিক প্রভাব বেশী। তিনি প্রথম গবেষণা করে প্রকাশ করেন কান্নার সময় কেউ যদি তাকে সামাজিক নির্ভরতা প্রদর্শন করে তবে ওই ব্যক্তি তুলনামূলক ভালো বোধ করেন। যারা কান্নাকে আটকে রাখার চেষ্টা করেল তারা ভালো বোধ করে না। তিনি এই গবেষণায় আরও প্রকাশ করেন যে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় অন্ততঃ ৩-৪ গুণ বেশী কাঁদে এবং সেই কান্নার তীব্রতা ছেলেদের তুলনায় খুবই বেশী হয়।
    ১৯৬২ সালে ডেনমার্কের বিজ্ঞানী নিয়েল স্টেনসেন সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন যে চোখের পানির উৎপাদন হয় ল্যাক্রিমাল গ্ল্যান্ডে।
    চোখের পানি তিন ধরণের।
    ব্যাসালঃ এই ধরণের চোখের পানি আমাদের চোখে সবসময়ই থাকে। এই পানি প্রোটিন সমৃদ্ধ। সেই সাথে ব্যাক্টেরিয়াও মেরে ফেলতে পারে। এই ধরণের চোখের পানিই আমাদের চোখকে কখনও শুকিয়ে যেতে দেয় না, প্রতিবার পলক ফেলার সময় এটা সমগ্র অক্ষিগোলকে ছড়িয়ে যায়।
    রিফ্লেক্সঃ যদি চোখ কোনও কারণে কোনও কিছু দিয়ে আক্রান্ত হয়, তখন এই পানির উৎপত্তি হয়। জোরে বাতাস, ধোঁয়া ইত্যাদি গেলে বা পেঁয়াজ কাটার সময় যে পানি বেরিয়ে আসে তা এই ধরণের। এই ধরণের পানি বের হয় মূলত এইসব আক্রমণাত্মক পদার্থগুলিকে পরিস্কার করার জন্যই।
    আবেগী বা ইমোশোনালঃ কোনও কারণে বেদনাগ্রস্ত হলে এই ধরনের পানির উৎপত্তি হয়, যাকে আমরা কান্না বলি। এই বেদনার কারণ শারীরিক বা মানসিক বা দুইই হতে পারে। এই ধরণের চোখের পানিতে লিউসিন এঙ্কেফেলিন থাকে, যা একটি প্রাকৃতিক পেইনকিলার। আরও থাকে প্রোল্যাক্টিন, এড্রিনোকরটিকোট্রপিক হরমোন, পটাশিয়াম এবং ম্যাঙ্গানীজ।
    আবেগী কান্না বা চোখের পানির সুবিধা অসুবিধা দুটিই আছে। কান্না একটি খুবই শক্তিশালী যোগাযোগের এবং অন্যের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার অস্ত্র।

    No comments

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad