এক নজরে ইন্টারন্যশনাল স্পেস স্টেশন।
ইন্টারন্যশনাল স্পেস স্টেশন ১৯৯৮ সালের ২০ নভেম্বর কক্ষপথে পাঠানো হয়। এসময় এর
প্রথম অংশ পাঠানো হয়েছিল। ২০১৬ সালে এর শেষ অংশটি পাঠানো হয়। এটি ২০৩০ সাল পর্যন্ত
কাজ করবে। এটি মাটি থেকে ৩৩০ থেকে ৪৩৫ কিলোমিটার উপর দিয়ে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে
চলেছে। চলুন এর ব্যাপারে কিছু তথ্য জেনে নেয়া যাক।
- মোট ১৮টিদেশের ২৩০ জন মানুষ এখন পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল স্পেস সেন্টারে পা রেখেছেন।
- নভেম্বর
২০০০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সবসময়ই ইন্টারন্যশনাল স্পেস স্টেশন এর জায়গা ফাঁকা
হয়নি। কেউ একজন চলে গেলে আরেকজন এসেছেন তা জায়গাতে।
- এখানে
বিভিন্ন দেশ মিলিয়ে ছয় জন বাস ও কাজ করছেন। এটি প্রতি সেকেন্ডে পাঁচ মাইল গতিতে ছুটে
চলেছে। প্রত্যেক ৯০ মিনিটে পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে আসছে।
- প্রতি
২৪ ঘন্টায় এটি পৃথিবীকে মোট ১৬ বার প্রদক্ষিণ করে। এখানে যারা থাকছে তারা দিনে ১৬
বার করে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখছে।
- সেপ্টেম্বর
২, ২০১৭ সালে পেগি হুইস্টন ৬৬৫ দিন এখানে থেকে সবচেয়ে বেশী সময় এখানে অতিবাহিত করার
রেকর্ড করেন।
- এতে যে
বিশাল সোলার প্যানেল আছে তার কারণে মাঝে মাঝে মাটি থেকে এটাকে দেখার সুযোগ আসতে
পারে, তবে তা শুধুমাত্র ভোর ও সন্ধ্যা বেলায়। এটির গতিপথ দেখতে এখানে যেতে পারেন।
- এখানে যে
থাকার ও কাজ করার জায়গা তার মোট আয়তন ছয় বেডরুমের একটি বাড়ির সমান। এতে আছে ছয়টি ঘুমানোর
কোয়ার্টার, দুটি বাথরুম, একটি জিমনেশিয়াম এবং একটি ৩৬০ ডিগ্রীর জানালা।
- মাইক্রোগ্র্যাভিটির
জন্য শরীরের পেশী ও হাড়ের ক্ষয় রোধ করার জন্য একজন এস্ট্রোনটকে প্রতিদিন প্রায় দুই
ঘন্টা ব্যায়াম করতে হয়।
- ডিসেম্বর
১৯৯৮ থেকে এখন পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ, কন্সট্রাকশন এবং ত্রুটি ঠিক করার জন্য সব
মিলিয়ে ২০৫ বা স্পেসওয়াক করা হয়।
- এর
সোলার প্যানেলের এপার থেকে ওপারের দুরত্ব ২৪০ ফিট না পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিমান এয়ারবাস
এ৩৮০ এর সমান।
- এর বিভিন্ন
অংশ ৪২টী আলাদা আলাদা ফ্লাইটে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর মাঝে ৩৭টি মার্কিন স্পেস শাটল
আর বাকী গুলি পাঠিয়েছিল রাশিয়া।
- স্পেস ষ্টেশন
লম্বালম্বিভাবে ৩৫৭ ফুট, যা একটি আমেরিকান ফুটবল স্টেডিয়ামের দৈর্ঘ্যের চেয়ে মাত্র
তিন ফিট ছোট।
- এর ভেতরে মোট আট মাইল বিদ্যুতের তার ব্যবহার হয়েছে।
- একসাথে
এখানে ছয়টি স্পেসক্র্যাফট ডক করতে পারে।
- পৃথিবী
থেকে এখানে পৌছাতে কমপক্ষে ছয় ঘন্টা সময় লাগে।
- চারটি
আলাদা আলাদা কার্গো স্পেস ক্র্যাফটে করে এখানে রসদ পাঠানো হয়। এগুলি হল অরবিটাল
এটিকে’র সিগ্নাস, স্পেসএক্স এর ড্রাগন, জেক্সা’র এইচটিভি এবং রাশিয়ান প্রোগ্রেস।
- এর
মাইক্রোগ্র্যাভিটি ল্যাবে এখন পর্যন্ত ২,৪০০ এর বেশী গবেষণা শেষ হয়েছে যেগুলিতে জড়িত
ছিল ১০৩টি দেশ।
- ইন্টারন্যাশনাল
স্পেস স্টেশনের গতিপথ পৃথিবীর ৯০ ভাগ জনসংখ্যা কাভার করে।
- এক দিনে
এটি পৃথিবী থেকে চাঁদের সমান দুরত্ব দুবার অতিক্রম করে।
- এখানে
একটি ওয়াটার রিকভারী সিস্টেম আছে যা পৃথিবী থেকে পাঠানো পানির ওপর নির্ভরতা ৬৫% কমিয়ে
দেয়।
- কক্ষপথে
থাকা অবস্থায় সফটয়ারের সাহায্যে প্রায় ৩৫০,০০০ সেন্সর দিয়ে এর উপর নজর রাখা হয়। ৫০টিরও
বেশী কম্পিউটার আছে এর ভেতরে।
- এর প্রেসারাইজড
মডিউলের দৈর্ঘ্য ২৪০ ফিট।
- ভর
৯২৫,৩৩৫ পাউন্ড বা ৪১৯,৭২৫ কেজি।
- বাসযোগ্য
জায়গা আছে ১৩,৬৯৬ ঘনফুট।
- আটটি
সোলার প্যানেল ৭৫ থেকে ৯০ কিলোওয়াট শক্তি তৈরি করতে পারে।

No comments