Header Ads

  • Breaking News

    ডাবল পালসার কি?

    ডাবল পালসার কি এটা বুঝতে হলে আগে জানতে হবে পালসার কি।

    যখন একটি নক্ষত্র নিজের গ্র্যাভিটির কারনেই নিজের কেন্দ্রের দিকে সংকুচিত হয়ে যায়, তখন একটি প্রচন্ড শক্তিসম্পন্ন বিস্ফোরণ হয়, যার নাম সুপারনোভা। যদি নক্ষত্রটির ভর যথেষ্ট বেশী থাকে তবে সেটা ব্ল্যাকহোলে পরিণত হতে পারে। কিন্তু যদি ব্ল্যাকহোলে পরিণত হবার মত ভারী না হয় তবে তা নিউট্রন স্টারে পরিণত হয়। নিউট্রন স্টারে ইলেক্ট্রন ও প্রোটনের ঘনত্ব এতটাই বেশী থাকে যে নক্ষত্রের কেন্দ্রে প্রতিনিয়ত সংঘর্ষ হয় এবং ইলেকট্রন ও প্রোটন একত্রিত হয়ে নিউট্রন তৈরি করে। একটি নিউট্রন স্টারের ব্যাস মাত্র কয়েক মাইল থাকে। এইটূকু জায়গাতে সূর্যের চেয়ে বেশী পদার্থ থাকায় এর ঘনত্ব খুবই বেশী হয়। এইসব নক্ষত্রে এক চামচ নিউট্রনের ভর পৃথিবীর ১০০ মিলিয়ন টনেরও বেশী হতে পারে। 

    কিছু কিছু নিউট্রন স্টার নির্দিষ্ট সময় পরপর দৃশ্যমান আলো বা রেডিও ওয়েভ বা গামা রশ্মি বা রন্টজেন রশ্মির বীম ছাড়তে পারে। এই ধরণের নিউট্রন স্টারদের বলা হয় পালসার। পালসার অনেকটা বাতিঘরের মত। যদি একটি পালসার পৃথিবীর সাথে সরল রেখায় নিরাপদ দুরত্বে অবস্থান করত তবে হয়ত আমরা তা নিজেরাই দেখতে পেতাম। এই আলোর বীম এতটাই নিয়মিত হয় যে তা আনবিক ঘড়ির চেয়েও নির্ভুল। একটি পালসার নিজ অক্ষের উপর প্রচন্ড গতিতে পাক খায়। সেটা সেকেন্ডে ১০০ বারও হতে পারে।

    যদি উপরের দেয়া তথ্য গুলি বুঝে থাকেন, তবে এতক্ষণে হয়ত বুঝে গেছে্ন একটি ডাবল পালসার কি হতে পারে। একটি পালসার ও একটি নক্ষত্র বা সাদা বামন একটি আরেকটিকে প্রতিনিয়ত প্রদক্ষিণ করে চলেছে। এমন সিস্টেম মহাকাশে খুঁজে পাওয়া কঠিন নয়। কিন্তু ডাবল পালসার বা বাইনারী পালসার সিস্টেমে যেখানে দুটি পালসার একটি আরেকটিকে প্রদক্ষিণ করছে, এধরণের সিস্টেম এখন পর্যন্ত একটিই পাওয়া গেছে। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার পারক্স অভারভেটরীতে রেডিও এস্ট্রোনমার মারটা বারগে’র নেতৃত্বে এই সিস্টেম আবিষ্কার হয়। এর নাম PSR J0737-3039। পৃথিবী থেকে এর দুরত্ব প্রায় ৩২০০-৪৫০০ আলোকবর্ষ। পালসার দুটি একটি অন্যটিকে প্রায় দুই ঘন্টা ২৪ মিনিটে একবার প্রদক্ষিণ করে। দুটি পালসারের একটি হল PSR J0737-3039A, এটি প্রতি ২২.৭ মিলিসেকেন্ডে একবার পালস দেয়। অন্যটি PSR J0737-3039B এর দুটি পালসের মাঝে ২.৭৭৩ সেকেন্ড সময় নেয়। 

    ডাবল পালসারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটা হল এর সাহায্যে পদার্থ বিজ্ঞানীরা তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানের কিছু সূত্রের প্রমাণ খুঁজে পান। কারণ পালসারের দুটি পালস (আলোর বীম) ছড়ানোর মাঝের সময়টা প্রত্যেকবার খুবই নিখুঁত যে পদার্থ বিজ্ঞানীরা আইনস্টেইনের থিওরী অব জেনারেল রিলেটিভিটির কিছু অংশ প্রমাণ করা সুযোগ পান। এই থিওরীতে বলা হয় যে দুটি বড় নক্ষত্রের একীভূত হবার মত বড় ঘটনা যখন ঘটে, তখন গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ তৈরি হয়, যা মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে।  

    No comments

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad