সূর্যের প্রতিবেশী নক্ষত্র বার্নারড স্টারে একটি বরফে ঢাকা সুপার আর্থ আবিষ্কার।
বার্নারড স্টার একটি রেড ডোয়রফ নক্ষত্র। আমাদের সূর্য থেকে এর দুরত্ব প্রায় ছয়
আলোকবর্ষ। খুবই সম্প্রতি এই নক্ষত্রের গ্রহ আবিষ্কার হয়েছে। গ্রহটি একটি “সুপার আর্থ।“
নাম “GJ 699 b” বা বার্নারড স্টার বি। গ্রহটি
পৃথিবীর চেয়ে অন্ততঃ ৩.৩ গুণ বড় এবং তার মাতৃনক্ষত্রকে প্রতি ২৩৩ দিনে একবার প্রদক্ষিণ
করে।
বার্নারড স্টার সূর্যের চতুর্থ নিকটতম নক্ষত্র। নিকটতম তিনটি নক্ষত্র হল আলফা
সেন্টূরি এ, আলফা সেন্টুরি বি এবং প্রক্সিমা সেন্টুরি। প্রক্সিমা সেন্টুরি হল সবচেয়ে
কাছের নক্ষত্র যার গ্রহ সিস্টেম আছে। এর একটি গ্রহ প্রক্সিমা সেন্টুরি বি, প্রতিনিয়ত
এটি তার নক্ষত্রের সোলার ফ্লেয়ারে ঝলসাচ্ছে। পৃথিবী থেকে ৪.২ আলোকবর্ষ দূরের এই
গ্রহে প্রাণ থাকার সম্ভবনা খুবই ক্ষীণ।
বার্নারড স্টার বি এর খুঁজে পাওয়াটা অনেক উত্তেজনাকর হলেও পৃথিবীর সাথে এর মিল
আছে, এটা ভাবাটা বোকামী। কারণ বার্নারড স্টার এর আলোর শক্তি বা উজ্জ্বলতা, তা আমাদের
সূর্যের মাত্র ০.৪০ গুনের সমান। একারণে এই নক্ষত্রে বাসযোগ্য এলাকা নক্ষত্রে খুবই
কাছে অবস্থিত। বার্নারড স্টার বি গ্রহটি তার নক্ষত্রে “স্নো লাইনের” বাইরে অবস্থিত।
স্নো লাইন হল সেই সীমারেখা যে পর্যন্ত পানি তরল থাকতে পারে, এই লাইন থেকে বাইরে থাকা
পানি কঠিন অবস্থায় থাকবে। বার্নারড স্টার বি এর সম্ভ্যাব্য তাপমাত্রা -১৭০ ডিগ্রী
সেলসিয়াস।
আমাদের সৌরজগতে কোনও সুপার আর্থ নেই। এর আগে যেসব
সুপার আর্থ আবিষ্কার হয়েছিল সেগুলির দুরত্ব বার্নারড স্টারের চেয়ে বেশী ছিল। এই সব সুপার আর্থ গুলির ভর
থাকে ছোট ছোট পাথুরে গ্রহ যেমন পৃথিবী, মঙ্গল বা শুক্রের মত থেকে শুরু করে বড়
গ্যাসীয় গ্রহ যেমন নেপচুনের ভরের মাঝে। এখন পৃথিবী থেকে ছয় আলোকবর্ষ দূরে একটি আবিষ্কার
হওয়াতে এখন আমরা এগুলি সম্পর্কে একটু ভালভাবে জানতে পারব।
বার্নারড স্টার এত কাছে হলেও এই আবিষ্কারের জন্য একদল আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ
দলের প্রায় এক দশক সময় লেগে গেছে। “রেডিয়াল ভেলোসিটি হিসাব করার জন্য সাতটি আলাদা যন্ত্রের
পর্যবেক্ষণ ডেটা প্রায় ২০ বছর ধরে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।“ বলেন ইন্সটূট ডে সিয়েন্সেস
ডেল এস্পাই, স্পেন এর ইগ্নাসি রিবাস। নেচারের এই প্রকাশনাটি এখানে পাবেন।
![]() |
| শিল্পীর কল্পনায় বার্নারড স্টার বি গ্রহ। ছবিঃ উইকিপিডিয়া। |
রেডিয়াল ভেলোসিটি সঠিকভাবে বের করতে একটি নক্ষত্রের
বর্ণালীর পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য দরকার হয়। যখন একটি নক্ষত্রের আলো কোনও টেলিস্কোপে ঢোকে,
তখন এই আলোকে তার বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে বিভক্ত করা হয় যেমন ইনফ্রারেড, দৃশ্যমান
এবং অতিবেগুনী। যদি এতদিন ধরে জ্যোতির্বিদেরা এই নক্ষত্রের আলো নিয়ে এত গবেষণা করে
থাকেন, তবে তারা নির্দিষ্ট সময় পর পর এই আলোর কিছু পরিবর্তন দেখতে পেয়েছিলেন। আসলে
এভাবেই এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার হয়। যখন এক্সোপ্ল্যানেট তার মাতৃনক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ
করে তখন গ্রহের গ্রাভিটির কারণে মাতৃনক্ষত্র কিছুটা নড়াচড়া করে। এই কারণে মনে হয় যে
নক্ষত্রটি টেলিস্কোপ থেকে কিছুটা দূরে সরে যাচ্ছে। এই দূরে সরে যাবার একটি রুটিন থাকে।
এই রুটিন পর্যবেক্ষণ করে ওই গ্রহের অরবিটাল পিরিওড এবং ভরের ওপরে। রেডিয়াল ভেলোসিটি
মেথডে পর্যবেক্ষণ করতে থাকা নক্ষত্রের আলোর তীব্রতা কতখানি কমলো, সেই তথ্যের দরকার
হয় না।
“ট্রানজিট পদ্ধতিতে অসংখ্য এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার
হয়েছে। এখন আমাদের আর্কাইভে প্রচুর ডেটা আছে, যেগুলি ফেলে দিতে হবে। নতুন এই পদ্ধতির
দিন দিন নিখুঁত হবার দিক দিয়ে আরও উন্নত হচ্ছে। হয়ত এটি স্পেস এক্সপ্লোরেশনে নতুন
কোন প্যারামিটার নিয়ে আসবে। “ বলেন কার্নেগী ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স এর পল বাটলার।
তিনি রেডিয়াল ভেলোসিটি মেথডের অন্যতম পথপ্রদর্শক।
যেহেতু বার্নারড স্টার বি এত কাছে, তাই পরবর্তী পর্যায়ের টেলিস্কোপ যেমন নাসা’র অয়াইড
ফিল্ড ইনফ্রারেড সার্ভে টেলিস্কোপের জন্য এটি একটি অন্যতম টার্গেট হবে।


No comments